মুর্শিদাবাদে চার শিশুকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ, নিহত ৩, সংকটাপন্ন ১
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতিতে চার শিশুর ওপর ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে হামলার ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও এক শিশু…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমএমইউ) কার্ডিয়াক সেন্টারের একটি সিসিইউ কেবিন দীর্ঘ ১৮ মাস সংরক্ষিত রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশের কপি সামনে আসার পর হাসপাতালের সীমিত সিসিইউ সুবিধা সাধারণ রোগীদের ব্যবহারের বাইরে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর বিএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের একটি অফিস আদেশে বলা হয়, ১৬ অক্টোবরের আরেকটি অফিস আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিসিইউ-২-এর বেড-১ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই বেডের সার্বক্ষণিক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি করা হয় কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আবু সেলিমকে। সদস্য হিসেবে ছিলেন ডা. খন্দকার কামরুজ্জামান, ডা. দীনে মুজাহীদ মো. ফারুক ওসমানী এবং ডা. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল জামালী। সিসিইউ-২-এর ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স রিপা রানী দেবকে সদস্য করা হয়। কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ নথিটিতে অনুমোদনকারী কর্মকর্তা হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
১৮ মাসে কত রোগী বঞ্চিত হতে পারেন?
অভিযোগকারীদের দাবি, একটি সিসিইউ কেবিন যদি নিয়মিত রোগীদের জন্য উন্মুক্ত থাকত এবং গড়ে একজন রোগী এক সপ্তাহ করে সেখানে চিকিৎসা নিতেন, তাহলে ১৮ মাসে অন্তত ৭৮ জন রোগী ওই বেডটি ব্যবহার করার সুযোগ পেতে পারতেন
অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ভিআইপির সম্ভাব্য জরুরি চিকিৎসার জন্য একটি নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের বেড এত দীর্ঘ সময় খালি রেখে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও প্রশাসনিক যৌক্তিকতা কী ছিল।
বিশেষ করে হৃদরোগের জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত সিসিইউ সুবিধা পাওয়া অনেক সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে হাসপাতালের একটি বেড দীর্ঘ সময় সাধারণ ব্যবহারের বাইরে থাকলে তার প্রভাব রোগীসেবায় পড়তে পারে কি না, সেটি স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিএমএমইউ একটি বিশেষায়িত সরকারি চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সিসিইউর প্রতিটি বেডের ব্যবহার হাসপাতালের রোগীসেবার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় এবং চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত।
তাই কোনো বেড দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত থাকলে শুধু রোগীসেবাই নয়, প্রতিষ্ঠানটি সম্ভাব্য আয় থেকেও বঞ্চিত হয়েছে কি না, সেটিও হিসাব করে দেখা প্রয়োজন বলেও মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
অফিস আদেশে কী বলা হয়েছিল
২০২৪ সালের ২০ অক্টোবরের অফিস আদেশে বলা হয়, বিএসএমএমইউর কার্ডিয়াক সেন্টারের কার্ডিওলজি বিভাগের অধীন সিসিইউ-২, বেড-১ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ওই বেডের সার্বক্ষণিক ভিআইপি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।
অর্থাৎ এটি শুধু মৌখিক নির্দেশ ছিল না, বরং একটি লিখিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বেড সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

অফিস আদেশ। ছবিঃ সংগৃহীত
তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত হওয়া উচিত। বিশেষ করে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে পরবর্তী ১৮ মাসের সিসিইউ-২-এর বেড-১-এর ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।তদন্তে দেখা যেতে পারে, ওই সময়ে বেডটিতে কোনো রোগী ভর্তি ছিলেন কি না, কতদিন খালি ছিল, জরুরি রোগী ভর্তি করতে এসে কেউ বেড না পাওয়ার কারণে অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল কি না এবং সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্তের মেয়াদ ও প্রশাসনিক অনুমোদন কী ছিল।
একই সঙ্গে ড. ইউনূসের চিকিৎসার জন্য বেডটি আদৌ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, ব্যবহার হয়ে থাকলে কতবার এবং কতদিনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও নথির মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগে তৎকালীন বিএমএমইউ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি বন্ধ বা ব্যাহত করার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। নথিটি অবশ্য একটি বিষয় নিশ্চিত করে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি চিকিৎসার জন্য বিএমএমইউর সিসিইউ-২-এর বেড-১ সংরক্ষণের বিষয়ে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর লিখিত প্রশাসনিক আদেশ জারি হয়েছিল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au