মুর্শিদাবাদে চার শিশুকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ, নিহত ৩, সংকটাপন্ন ১
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতিতে চার শিশুর ওপর ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে হামলার ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও এক শিশু…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- তীব্র এলএনজি সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব কটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গত বুধবার থেকে এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিন দিন ধরে জেলার ফিলিং স্টেশনগুলো কার্যত বন্ধ। এতে সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যান চলাচল কমে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার পর থেকে স্টেশনগুলোতে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।ছবি: সংগৃহীত
জেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে আগে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। যদিও এসব স্টেশনের দৈনিক চাহিদা প্রায় এক লাখ ঘনমিটার।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম ছিল। সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও তখন মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
এরপর বুধবার সরবরাহ আরও কমিয়ে দেওয়া হলে একপর্যায়ে সব ফিলিং স্টেশনেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাস নিতে আসা সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলো বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। গ্যাস না পেয়ে অনেক চালক গাড়ি পার্কিং করে রেখে দেন।

এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে স্বল্প সংখ্যক অটোরিকশা চললেও ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও।ছবি: সংগৃহীত
কমেছে সিএনজি অটোরিকশার চলাচল
গ্যাসের সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক ও মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু চালক বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে অটোরিকশা চালাচ্ছেন। তবে এতে বেড়েছে যাত্রীভাড়া।
শহরের কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যাওয়ার জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পেয়েছেন মেহেদী নামের এক যাত্রী।
তিনি জানান, ওই পথে নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা হলেও চালক ৮০ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষির পর ৭০ টাকায় যেতে রাজি হন চালক।
জনি মিয়া নামের এক সিএনজি অটোরিকশাচালক জানান, তিনি কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে গাড়ি চালান। এই পথে নিয়মিত শেয়ার ভাড়া ৫০ টাকা। গ্যাস সংকটের কারণে বুধবার থেকে তিনি ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে। ফলে এখন যাত্রীদের কাছ থেকে ৯০ টাকা ভাড়া নিতে হচ্ছে।
রোববার বা সোমবার গ্যাস সরবরাহের আশা
ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, বুধবার থেকে তাঁদের স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনে গ্যাস দিতে না পারায় ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অথবা সোমবার থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে বলে তিনি জানান।তবে গ্যাস সংকট কবে পুরোপুরি কাটবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।
কোম্পানিটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সংকট কবে নাগাদ কাটবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au