মুর্শিদাবাদে চার শিশুকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ, নিহত ৩, সংকটাপন্ন ১
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতিতে চার শিশুর ওপর ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে হামলার ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও এক শিশু…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২১ আগস্ট নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরটি চূড়ান্ত হলে এটি হবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম ভারত সফর। দুই দিনের সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে সফরের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ভারতীয় পক্ষের আমন্ত্রণের পর সফর নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এর আগে ভারত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে ২১ আগস্টের সম্ভাব্য সফরটি ব্রিকস সম্মেলন থেকে আলাদা একটি দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
দুই দিনের সফর, মোদির সঙ্গে বৈঠক
নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ আগস্ট নয়াদিল্লি পৌঁছালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে পারেন। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
সরকারি পর্যায়ে এরই মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারা সফরসঙ্গী হতে পারেন
বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সফরে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে পারেন। তাঁদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সফরসঙ্গী দলের অংশ নাও হতে পারেন বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সফরের চূড়ান্ত তালিকা অবশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ব্রিকস সম্মেলনে আবারও দিল্লি যাওয়ার সম্ভাবনা
দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে তারেক রহমান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবারও নয়াদিল্লি যেতে পারেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে তিনি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়। তবে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক জোটটির আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ২৩ জুলাই ভারতের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছিল।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে সরকার আমন্ত্রণটি পর্যালোচনা করছে।
সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটানোর চেষ্টা
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েন চলছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে নানা বিষয়ে দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি এবং সীমান্ত ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার দিল্লিতে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করেছে। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তাঁর বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায়
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের আগেই ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তারা আইনি প্রক্রিয়ার আলোকে পর্যালোচনা করছে।
ফলে তারেক রহমানের দিল্লি সফরে শেখ হাসিনার বিষয়টি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা গুরুত্ব পেতে পারে
সম্ভাব্য বৈঠকে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং ভারতের ঋণে বাংলাদেশে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিশেষ করে ভারতীয় ঋণে নেওয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে নতুন করে আলোচনা হতে পারে বলে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই সফরে বড় কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। বরং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কাঠামো তৈরিই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।
নিরাপত্তা ইস্যুতেও আলোচনা
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সম্ভাব্য বৈঠকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য তৈরি হতে পারে এমন ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে বাংলাদেশও নিজেদের ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতির কথা বলে আসছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
২১ আগস্টের সম্ভাব্য তারেক রহমানের দিল্লি সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর নয়, বরং ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে পানি, জ্বালানি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার মতো দীর্ঘদিনের ইস্যু। এসব বিষয় সামনে রেখেই দুই দেশের সরকার নতুন করে সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা করছে।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সেই প্রক্রিয়াকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে, তা নির্ভর করবে মোদি-তারেক বৈঠকে আলোচনার বিষয় এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au