মুর্শিদাবাদে চার শিশুকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ, নিহত ৩, সংকটাপন্ন ১
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতিতে চার শিশুর ওপর ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে হামলার ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও এক শিশু…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। সংস্থাটির আশঙ্কা, মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউনেস্কো জানায়, ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ধারাবাহিকভাবে সংকুচিত হয়েছে। চলতি বছরই মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেয়ের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ বেড়েছে।
ইউনেস্কোর মতে, একটি প্রজন্মের মেয়েদের দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা থেকে দূরে রাখার প্রভাব শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব আফগানিস্তানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপরও পড়বে এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ইউনেস্কোর ‘জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষা’ কর্মসূচির সমন্বয়কারী হোদা জাবেরিয়ান বলেন, আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে মেয়ে ও নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনে পাঁচ বছর কোনো সাময়িক বিরতি নয়। এই সময়কাল মাধ্যমিক শিক্ষার প্রায় পুরো একটি পর্যায়ের সমান।
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে নিষেধাজ্ঞা
দুই দশকের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার শুরু করলে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। ক্ষমতায় ফেরার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তালেবান কর্তৃপক্ষ মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল।
তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সেই অবস্থান থেকে সরে আসে তালেবান। ২০২২ সালের মার্চে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এসব সিদ্ধান্তকে শুরুতে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও পাঁচ বছর পরও নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হয়নি।
ফলে আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষার কিছু সুযোগ থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।
শিক্ষার বাইরেও কঠোর বিধিনিষেধ
মেয়েদের ওপর তালেবানের বিধিনিষেধ শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কর্মসংস্থান, চলাফেরা এবং জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীদের কাজের সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক পার্ক, জিম ও বিউটি স্যালনসহ বিভিন্ন স্থানে নারীদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তালেবান কর্তৃপক্ষ এসব পদক্ষেপের পক্ষে ইসলামি আইন ও আফগান সংস্কৃতির নিজস্ব ব্যাখ্যার কথা বলে থাকে। তাদের দাবি, এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও তারা নারীদের অধিকারকে সম্মান করছে।
তবে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তালেবানের নারী ও মেয়েদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের কঠোর সমালোচনা করে আসছে। জাতিসংঘ এসব সামগ্রিক বিধিনিষেধকে ‘লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতেও পিছিয়ে তালেবান
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর তালেবান সরকার এখনো ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। পাঁচ বছর পরও রাশিয়া ছাড়া আর কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের অধিকার নিয়ে তালেবানের নীতিই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অন্যতম বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
ইউনেস্কোর আশঙ্কা, মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বর্তমানে স্কুলে যাওয়ার বয়সী যে বিপুলসংখ্যক মেয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সূত্রঃ ডয়েচে ভেলে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au