কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম আইয়ুব বাচ্চু। গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কয়েক দশক ধরে তিনি…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। ফলে ম্যাচ জিততে সফরকারীদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৭ রান।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান তিনি। তার সঙ্গে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে যায়।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ে। সফরকারীরা ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয়। ফলে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হয় বড় চাপ নিয়ে।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাই লড়াই করেন ক্যামেরন গ্রিন। ২০১ বল মোকাবিলা করে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার শতকের ওপর ভর করেই একসময় অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।
তবে গ্রিনের প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় ঠেকাতে পারেনি। দলীয় ২৭৮ রানে নবম উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না। শেষ পর্যন্ত নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এটি ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে তার পঞ্চম উইকেট।
চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ তৈরি করেন। প্রথম দেড় ঘণ্টায় স্পিনের জাদু দেখান মিরাজ। একে একে অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার বোলিংয়ে একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল। দিনের সপ্তম ওভারে মিরাজ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভেঙে দেন। ক্যারি ৭২ বলে ৩০ রান করে লিটন দাসের ক্যাচ হন।
এরপর বেউ ওয়েবস্টারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ৫ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর গ্রিনকে সঙ্গ দিতে আসা অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ৮ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হন। এই উইকেটটিও তুলে নেন মিরাজ। নতুন দিনে এটি ছিল তার তৃতীয় এবং ইনিংসে চতুর্থ উইকেট।
তবে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে মিচেল স্টার্কের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে আবারও ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ৯৫ রানে জীবন পান গ্রিন। তাসকিন আহমেদের বলে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ একটি শতক তুলে নেন তিনি।
গ্রিনের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়েন মিচেল স্টার্ক। পরে ৩৪ বলে দুই চারে ১৮ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে লিটন দাসের ক্যাচ হন স্টার্ক। তার বিদায়ের সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২৫০ রানে ৮ উইকেট, লিড ছিল ২২ রান।
এরপর গ্রিনকে ফেরান হাসান মাহমুদ। চতুর্থ দিন প্রথমবার বল হাতে নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ এই উইকেট তুলে নেন তিনি। অফস্টাম্প বরাবর করা দুর্দান্ত ডেলিভারিতে গ্রিনকে বোল্ড করেন হাসান। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়া এই পেসার দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিনটি উইকেট পান। ফলে ম্যাচে তার মোট উইকেট দাঁড়ায় নয়টি।
অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। তার পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি হাসান মাহমুদের কার্যকর বোলিং বাংলাদেশকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে এসেছে।
এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য মাত্র ৫৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এই রান করতে হবে বাংলাদেশকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au