ট্রাম্প-রুবিওর বক্তব্য পাশাপাশি, হোমার সিম্পসনের জিআইএফ দিয়ে ইরানের খোঁচা। ফাইল ছবি
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ব্যঙ্গ করে আলোচনায় এসেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র ‘দ্য সিম্পসনস’-এর হোমার সিম্পসনের একটি জিআইএফ ব্যবহার করে মার্কিন নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি রুবিওর একটি বক্তব্যের সঙ্গে ট্রাম্পের আরেকটি মন্তব্য পাশাপাশি তুলে ধরেন। রুবিও মার্চে ইরানকে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ দেশের জনগণের জন্য বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
রুবিওর বক্তব্য ছিল, “ভাবুন তো, ইরানি সরকার যদি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরিতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় না করে সেই অর্থ ইরানের জনগণের জন্য দেশের ভেতরেই বিনিয়োগ করত।”
অন্যদিকে, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, শিশুদের ডে-কেয়ার, মেডিকেইড ও মেডিকেয়ারের মতো বিভিন্ন খাতে ব্যয় বহন করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। তার মতে, দেশকে একটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, আর তা হলো সামরিক নিরাপত্তা।
ট্রাম্পের ভাষায়, “ডে-কেয়ার, মেডিকেইড, মেডিকেয়ারসহ এসব আলাদা আলাদা বিষয় দেখভাল করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের একটি বিষয়কেই গুরুত্ব দিতে হবে, সেটি হলো সামরিক নিরাপত্তা।”
এই দুই বক্তব্যের পাশে বাঘাই হোমার সিম্পসনের ঝোপের আড়ালে পিছিয়ে যাওয়ার জনপ্রিয় জিআইএফটি যুক্ত করেন। এর মাধ্যমে তিনি দুই মার্কিন নেতার বক্তব্যের মধ্যে কথিত অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনায় দণ্ডিত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
রোববার ইরানের বিচার বিভাগের অনলাইন সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন জানায়, শাহরাম সাদেঘি নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।বিচার বিভাগের দাবি, তিনি “ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি কার্যক্রম পরিচালনার” দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
মিজান অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ জানুয়ারি তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে বিক্ষোভের সময় সাদেঘি গাড়ি দিয়ে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপা দেন। এতে সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।
ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে তা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখে বিক্ষোভ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।
সূত্র-নিউজ.কম.এইউ