১১০০ বর্গফুটে ৫ ঘর, নেই অগ্নিনিরাপত্তা: কলকাতার হোটেল পাড়ায় আরও ‘মরণফাঁদ’। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনে ৯ জনের মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে আশপাশের হোটেল গুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাত্র ১১০০ বর্গফুটের একটি পাঁচতলা ভবনে একাধিক হোটেল, অফিস ও আবাসিক পরিবার পাশাপাশি অবস্থান করছে। কোথাও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, কোথাও বৈদ্যুতিক তারের জটলা ও সরু সিঁড়ি ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট থেকে মার্কুইস স্ট্রিট পর্যন্ত নিউ মার্কেটের আশপাশের এলাকা মূলত হোটেলপাড়া হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় আসা, বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে এসব হোটেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ‘শিখা ইন’-এর অগ্নিকাণ্ডের পর কাছাকাছি কয়েকটি হোটেলে ঘুরে দেখা যায়, অতিথিদের নিরাপত্তার তুলনায় ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনাই যেন বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
শিখা ইন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরের একটি পাঁচতলা ভবনে দেখা যায়, প্রতিটি তলায় একাধিক হোটেল রয়েছে। ভবনের সিঁড়ির পাশে বৈদ্যুতিক তার ও মিটার বক্সের জটলা। কয়েকটি তলায় হোটেলের পাশাপাশি অফিস ও আবাসিক পরিবারও রয়েছে। কোথাও সিসি ক্যামেরা, ফ্রি ওয়াই-ফাই ও এসির ব্যবস্থা থাকলেও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র চোখে পড়েনি।
তিনতলায় একটি লিফট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বলে মনে হয়েছে। লিফটের সামনে রাখা ছিল বিভিন্ন মালপত্রের বস্তা। পাশেই সরু জায়গায় রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারও ছিল। অথচ আগুন লাগলে দ্রুত মোকাবিলার মতো কোনো সরঞ্জাম চোখে পড়েনি।
চারতলায় হোটেলের পাশাপাশি বসতবাড়ি ও অফিসও রয়েছে। একটি হোটেলে সিসি ক্যামেরা থাকলেও অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। ভবনটির পাঁচতলায় গিয়ে ছাদেও বিশেষ কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
পরে এক হোটেল কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটিতে মোট চারটি হোটেল রয়েছে এবং পাঁচতলা মিলিয়ে প্রায় ৪০টি কক্ষ রয়েছে। আগুন নেভানোর জন্য প্রায় ১০টি ফায়ার সিলিন্ডার আছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে ফায়ার অ্যালার্ম বা কেন্দ্রীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এর আগে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জনের মৃত্যু হয়। পাঁচতলা ভবনের মাত্র প্রায় ১১০০ বর্গফুট জায়গার মধ্যে একাধিক কক্ষ ও শৌচাগার ছিল। ওই অগ্নিকাণ্ডের পরই নিউ মার্কেট এলাকার ছোট ও ঘনবসতিপূর্ণ হোটেল গুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সুত্রঃ আনন্দ বাজার