বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাক একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ওই চুক্তিতে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রতিবেদনে লেখকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে এমন প্রস্তাবের বিষয়ে ভারতের অস্বস্তির বিষয়টি স্বীকার করেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করা হলে তা দেশটিকে ‘ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অসমতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে এবং এর মাধ্যমে একটি ‘পরিণত ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির’ বার্তা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ও তুরস্ক এটিকে ইসলামী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার স্বাভাবিক সম্প্রসারণ হিসেবে স্বাগত জানাবে। অন্যদিকে ভারত তার পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশীর বিষয়ে প্রচলিত নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ
একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ইয়েনি শাফাক তুরস্কের আর দশটি সংবাদমাধ্যমের মতো নয়। এটি একটি ইসলামপন্থী সংবাদমাধ্যম এবং তুরস্কের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে ভারতের ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া। ভারতের এমন অনেক ছোটখাটো ঘটনাও তারা তুলে ধরে, যেগুলোকে তুরস্কের জন্য ভারতকে ব্যঙ্গ বা সমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। এ ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্বও তাদের সমালোচনা থেকে রেহাই পায় না।
২০২৪ সাল থেকে সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে জোরালোভাবে সমর্থন করে আসছে এবং শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচক হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। এটি তাদের ভারতবিরোধী অবস্থানেরই একটি ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইয়েনি শাফাক-এর বাংলাদেশকে মক্কা চুক্তিতে যুক্ত করার প্রস্তাবকে পুরোপুরি অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং তুরস্ক বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে, এমন সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ চুক্তির পক্ষগুলো ইতোমধ্যে জানিয়েছে, আগ্রহী অন্য দেশগুলোর জন্যও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের যে ধরনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গেও তুরস্ক তেমন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
আর এখানেই ভারতের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি তুরস্কের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। আর তুরস্ক দিন দিন ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
সৌদি আরবকে নিয়ে ভারতের খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই
মক্কা চুক্তি নিজে থেকে ভারতকে খুব বেশি উদ্বিগ্ন করার মতো বিষয় নয়। এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐক্যবদ্ধ শক্তি সৌদি আরব। দেশটি গত কয়েক বছরে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক নষ্ট করার কোনো কারণ নেই।
ভারত ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন নিজস্ব গুরুত্বেই শক্তিশালী। সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার চেষ্টা করছে। দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে নেওয়া উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের প্রয়োজন রয়েছে। সৌদি আরব ভারতে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
কমপক্ষে ৪০টি ভারতীয় কোম্পানি সৌদি আরবে তাদের সদর দপ্তর স্থাপন করেছে। পাশাপাশি ভারত সৌদি আরবের অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা। ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং হুথি বিদ্রোহীদের কারণে সৌদি আরবের পণ্য রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে ঝুঁকি বাড়ায় এই সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ভারত ও সৌদি আরবের সম্পর্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও রয়েছে। দুই দেশ নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। পাকিস্তানের জন্য সৌদি আরব এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, চুক্তিটি বহু বছরের আলোচনার ফল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়। ভারত-সৌদি সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী এবং দুই দেশ এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায়।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তান যখন আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন সৌদি আরব ন্যাটোর মতো কোনো বাধ্যবাধকতা দেখিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধে নামেনি। একইভাবে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ইরান যখন সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তখন পাকিস্তানও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি।
হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা চালানোর পরও পাকিস্তান বা তুরস্কের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
অর্থাৎ এই চুক্তির আওতায় ঠিক কোন ধরনের হামলাকে একটি পক্ষের ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং অন্য পক্ষগুলো কখন প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকায় নামবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তাই চুক্তিটিকে আপাতত বাস্তব সামরিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে কৌশলগত অবস্থান প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবেই দেখা যেতে পারে।
তবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নয়ন ও অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতা যে বাড়বে, তা প্রায় নিশ্চিত। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে তুরস্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি লাভ তুরস্কের
তুরস্কের সামরিক শিল্পভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। ইউরোপের সহযোগিতায় দেশটি কয়েক দশক ধরে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম লক্ষ্য হলো সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরতা অর্জন এবং পরে বিশ্ববাজারে বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিকারক হয়ে ওঠা।
কিন্তু তুরস্কের অর্থনীতি বর্তমানে নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং তুর্কি মুদ্রা লিরার দরপতন দেশটির অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। ফলে মক্কা চুক্তি তুরস্কের জন্য একাধিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রথমত, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কাছে তুরস্কের তৈরি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। এর ফলে তুরস্কের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের অর্থ ও বিনিয়োগ তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে পাওয়া সামরিক সহায়তার বিকল্প একটি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।
এ ক্ষেত্রে তুরস্কের তৈরি টিএআই কায়ান যুদ্ধবিমান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক ও সৌদি আরব উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী। তবে ইসরায়েল এ ধরনের বিক্রয়ের বিরোধিতা করে আসছে।
তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা কায়ান যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে এফ-৩৫-এর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। সৌদি আরবের জন্য এটি সরাসরি কেনার সুযোগ তৈরি করবে এবং একই সঙ্গে বিমানটির উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখার সুযোগও দিতে পারে।
এ ছাড়া ড্রোন ও নৌযান তৈরিতেও তুরস্ক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি প্রোটোটাইপও প্রদর্শন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ তুরস্কের তৈরি সামরিক সরঞ্জাম কিনছে অথবা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছে। মক্কা চুক্তি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য সদস্যদের জন্যও তুরস্ক থেকে সহজে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তুরস্কের আদর্শিক প্রভাবও উদ্বেগের কারণ
তৃতীয় বিষয়টি হলো আদর্শিক প্রভাব। তুরস্কের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক আদর্শের অন্যতম ভিত্তি রাজনৈতিক ইসলাম। এর কারণে দেশটি সোমালিয়া থেকে গাজা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। এর মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে।
তবে তুরস্কের দীর্ঘ সাম্রাজ্যিক ও সুফি ঐতিহ্য এবং ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশটির রাজনৈতিক ইসলামকে একটি তুলনামূলক পরিশীলিত রূপ দিয়েছে। ফলে ইসলামপন্থা নিয়ে আপত্তি রয়েছে এমন দেশেও তুরস্ক তার প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে।
আজারবাইজান, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এর উদাহরণ। এমনকি ভারতের কিছু এলাকাতেও তুরস্কের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দেখা যায়।
তুরস্ক মুসলিম পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এর মাধ্যমে নিজেদের বাজার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির সুযোগও বাড়াতে চায়। এই কারণে তুরস্কের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে মক্কা চুক্তি অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত।
মক্কা চুক্তি ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে আদর্শিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। সৌদি আরব ও পাকিস্তান অতীতে বিশ্বজুড়ে ওয়াহাবিবাদ ও জিহাদিবাদ বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে বলে সমালোচনা রয়েছে। সৌদি আরব বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে সংস্কার ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও জটিল।
তুরস্ক তুলনামূলকভাবে পরিশীলিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভাষায় নিজেদের আদর্শিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
বাণিজ্যিক করিডোরেও বড় সুবিধা পেতে পারে তুরস্ক
সবশেষে রয়েছে বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ করিডোর। সম্ভবত এখানেই তুরস্ক সবচেয়ে বড় সুবিধা পেতে পারে।
তুরস্ক বেশ কিছুদিন ধরে নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। অটোমান আমলে তুরস্কের ভূখণ্ডকে মক্কার সঙ্গে যুক্ত করা ঐতিহাসিক হিজাজ রেলপথ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি আপাতত প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে একসময়কার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের সঙ্গে নতুনভাবে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে।
এদিকে বহুল আলোচিত ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বা আইএমইসি-এর মূল পরিকল্পনা ছিল ইসরায়েলের মধ্য দিয়ে যাওয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা আগের রূপে বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। পরিবর্তে জর্ডান, সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্য দিয়ে বিকল্প পথ তৈরির আলোচনা চলছে।
২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনের সময় আইএমইসি প্রকল্পটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রকল্পটির সমালোচনা করে তুরস্ককে এই যোগাযোগ নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করার দাবি জানান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর সেই প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ দরকার হবে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা সেই বিনিয়োগের বড় একটি অংশ নিশ্চিত করতে পারে। তুরস্ককে মক্কা চুক্তিতে যুক্ত করার এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
ভারতের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
এই সব বিষয়ই ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বর্তমানে মক্কা চুক্তি সৌদি আরবকে বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি তুরস্ককেই সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
তাই ভারতের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে অপারেশন সিঁদুরে তুরস্কের ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকার দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে ভবিষ্যতে তুরস্কের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের আগে ভারতকে সতর্কতার সঙ্গে এগোনো উচিত।
তুরস্কের কৌশল বোঝার ক্ষেত্রে ইয়েনি শাফাক-এর বাংলাদেশবিষয়ক প্রতিবেদনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। কারণ তুরস্কের বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের মনোযোগ কমার সম্ভাবনা নেই।
সূত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au