দুই কিডনি বিকল, বাঁচতে চান শিক্ষক লিটন শর্মা। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- দুই কিডনিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন সিলেটের তরুণ কলেজ শিক্ষক লিটন শর্মা। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করেও শারীরিক অবস্থার স্থায়ী উন্নতি হচ্ছে না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সুস্থ জীবনে ফিরতে দ্রুত তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
লিটন শর্মা সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মজুমদারী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিলেট মদন মোহন কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার লতিফা শফি মহিলা ডিগ্রি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
ছোটবেলায় বাবাকে হারান লিটন। মা ও কাকাদের স্নেহে বেড়ে ওঠা লিটন ভালোবেসেই শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। বৃদ্ধ বিধবা মা, স্ত্রী ও সাত বছরের এক সন্তানকে নিয়ে চলছিল তাঁর সংসার। দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের অপেক্ষায় পরিবারে যখন নতুন স্বপ্নের জন্ম নিচ্ছিল, তখনই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
দুই কিডনিতে জটিলতা ধরা পড়ার পর থেকে সিলেটের রাগীব-রাবেয়া হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাঁকে। চিকিৎসকদের মতে, শুধু ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। আর এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা লিটনের মতো একজন এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকের পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে এরই মধ্যে পরিবার ও স্বজনরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় সেই সহায়তা খুবই অপ্রতুল।
লিটনের পরিবারে রয়েছে বৃদ্ধ বিধবা মা, স্ত্রী ও সাত বছরের সন্তান। বাবার অসুস্থতার পুরো বিষয়টি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি শিশুটি। নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসার কারণে বাবাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখেই দিন কাটছে তার। একই সঙ্গে স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে লিটনের স্ত্রীর।
লিটনের স্বজনরা জানান, একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও জীবনের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার শিক্ষা দিয়ে আসছেন। অথচ নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটে এসে তিনি এখন আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
তাঁরা বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, সহকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ যদি সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে লিটনের কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। তাঁদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় একজন তরুণ শিক্ষককে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিটন শর্মা আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান, শিক্ষার্থীদের পড়াতে চান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। তাঁর এই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন সবার সহযোগিতা।
সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম-
বিকাশ : +৮৮০১৭১৯৩৫১৮৩৫
+৮৮০১৪১৬৯০৩২১৯
নগদ : ০১৩৩৮৯৭৬৯৬৭
ব্যাংক হিসাব
হিসাবের নাম: LITAN CHANDRA SARMA & HASU RANI SHARMA
হিসাব নম্বর: 0200026187479 (Savings)
ব্যাংক: AGRANI BANK PLC
শাখা: SUBID BAZAR Branch, Sylhet