ড. মুহাম্মদ ইউনূস।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার আবেদন করা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। মামলাটি গ্রহণ করা হবে কি না এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে আদেশ পরে দেওয়া হবে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারীফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়ি। ছবিঃ সংগৃহীত
মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, সাবেক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলায় শিক্ষার্থী সমন্বয়ক আক্তার হোসেন, সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারোয়ার, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, বুলডোজার জোগানদাতা মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদের নাম রয়েছে।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি উদ্দেশ্যে কোনো উসকানি ছাড়াই ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে প্রথম নয় আসামির উসকানি, দায়িত্বহীনতা ও নির্দেশনায় বুলডোজার ব্যবহার করে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, ভাঙচুরের সময় বাড়িতে থাকা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, স্মৃতিচিহ্ন এবং মূল্যবান বিভিন্ন সামগ্রী লুটপাট করা হয়। পরে সেখানে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে এসব সম্পদ স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটির কারণে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও সম্পদ নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদী।
মামলার আবেদনে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৯৫, ৪২৭, ৪৩৫, ৪৩৮, ৪৪৮, ৪২০, ৫০৬ ও ৫০৭ ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৪ ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায়ও অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষ এসব অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছে। তবে আদালত এখনো মামলাটি আমলে নেওয়া বা আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো পরোয়ানা জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি।
আদালতের আদেশের পর মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।