রোহিঙ্গাদের ৩৫ শতাংশ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার নয় বছর পরও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় চলতি…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ৭০তম বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বিপিএসসি পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁস এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে বিহারে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার পাটনায় মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বাসভবনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা ঠেকাতে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে।
সকাল ১০টার দিকে পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে শত শত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী মিছিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাত্রা শুরু করেন। পথে বিহার সরকারের দেওয়া একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। পুলিশ তাদের বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে।
পুলিশের বাধা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের একটি অংশ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। পরে ওই এলাকা থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।
পাটনার গার্ডানিবাগ এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। মঙ্গলবার জমি-সংক্রান্ত দাবিতে আন্দোলনরত একটি কৃষক দল কালো পতাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা সিআরপিএফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
এর আগে সোমবার শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিহার সরকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, বৈঠকটি ইতিবাচক হলেও তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
ছাত্রনেতা সৌরভ কুমার বলেন, সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য শুধু জুনিয়র কর্মকর্তাদের পাঠাচ্ছে, যা তারা মেনে নেবেন না। আন্দোলনকারীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী অথবা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে হবে। অন্য কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা রাজি নন।
সৌরভ কুমার আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী বা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হলে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে আন্দোলনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতি মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘বিদ্যার্থী সহযোগী শিবির’ আয়োজন করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন পোর্টাল ও হেল্পলাইন নম্বর ১১০০-এর মাধ্যমে অভিযোগের অগ্রগতি জানা যাবে।
তবে সরকারের এই উদ্যোগের পরও ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষা নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন থেকে সরে আসেননি। পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সুত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au