চাঁদপুরের এক হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- চাঁদপুর শহরে স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম পিন্টু দাস। তিনি শহরের…
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার পর দেশে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী সেল গঠনের চেষ্টা করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আল-কায়েদার বড় কোনো সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, এমন দাবি করেনি জাতিসংঘ।
চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের প্রতিবেদনে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএস বর্তমানে আগের মতো বড় ও প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট, বিচ্ছিন্ন এবং গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থায়ন, রসদ সংগ্রহ ও কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করতে পারে।
জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ অবশ্য বলেছেন, সরকার প্রতিবেদনটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে না। তার কাছে প্রতিবেদনের তথ্য অনুমাননির্ভর বলে মনে হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাই বর্তমান সতর্কবার্তাকেও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে এমন বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৫ সালের মার্চে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, দেশে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ নেই। সে সময় বাংলাদেশে তালেবান ও আল-কায়েদার সদস্যদের উপস্থিতির খবরকে তিনি বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
এর মাত্র কয়েক মাস পর, ২০০৫ সালের আগস্টে জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় একযোগে শত শত বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জেএমবির সামরিক শাখার নেতা বাংলাভাই ও তার অনুসারীদের প্রকাশ্য তৎপরতার ঘটনাও সামনে আসে। প্রথমদিকে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ধরনের অস্বীকার ও বিতর্ক থাকলেও পরে সরকার জেএমবি ও সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালায়।
জেএমবির দেশব্যাপী বোমা হামলার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেই সতর্কতাগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সরকার দেশে ইসলামিক স্টেটের সাংগঠনিক উপস্থিতি অস্বীকার করলেও বাংলাদেশি কিছু জঙ্গি সংগঠন ওই গোষ্ঠীর আদর্শ অনুসরণ করে এবং তাদের নামে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে জঙ্গি হামলার সংখ্যা কমে যাওয়াকে সন্ত্রাসবাদের হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশেষ করে আল-কায়েদা বা তাদের সহযোগী কোনো গোষ্ঠী যদি ছোট ও বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে, তাহলে তা শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য যাচাই আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক তৈরি না করে সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au