নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় ৩৪ অস্ট্রেলীয় নিখোঁজ
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। তাদের…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।
বুধবার হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ এ বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। এতে নেপালের রসুয়া অঞ্চলসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল পানির স্রোত ও কাদার তোড়ে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। উদ্ধারকারীরা দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, দুর্যোগের পূর্ণ মাত্রা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং অনেক মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ পর্যটক ও তীর্থযাত্রী।
ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে অনেকে কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে নেপাল হয়ে তিব্বতের দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষও নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে।
প্রাথমিকভাবে দুর্যোগের কারণ নিয়ে ভূমিকম্পের আশঙ্কা করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে হিমবাহ ধস ও এর সঙ্গে নেমে আসা বিপুল বরফ, পাথর ও কাদার স্রোতকে বন্যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। আহত ও জীবিতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গতদের খাদ্য, পানি, তাবু ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে আরও মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au