রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার বিচার দাবিতে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ
নিউইয়র্ক, ২৬ আগষ্ট: রংপুরে একই সনাতনী পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।…
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী নীতি ও ভিসা যাচাইয়ে কড়াকড়ির মধ্যেই নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। তবে প্রশিক্ষণ কতদিন চলবে এবং নতুন করে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম এ সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে তাদের নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও অভিন্ন মানদণ্ডে যাচাই করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান ও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের পাশাপাশি ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশগ্রহণের মতো বিষয়ও ভিসা বা অভিবাসন সুবিধা বাতিলের কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে এসব নীতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা এবং আইনি চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি এক মার্কিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করে দেন, যার মাধ্যমে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। বিচারকের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ব্যাপক সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনগুলো।
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় ফেরার পর তার প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে শুধু অবৈধ অভিবাসন নয়, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপসহ ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিতের ফলে বর্তমানে সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারকে সঙ্গে নেওয়া কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে আবেদন করা ব্যক্তিদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
সূত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au