নীরব সেল, পলাতক জঙ্গি ও নতুন আতঙ্ক: বাংলাদেশ আবার জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে
OTN বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক মাসের ব্যবধানে বোমা, বিস্ফোরক এবং বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের একাধিক ঘটনা সামনে…
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য তুরস্ক সফরের সময় সই হতে পারে। চুক্তিতে ড্রোন ও গোলাবারুদ উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। একই সফরের আগে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নভেম্বরে তুরস্ক সফরের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সৌদি আরবের জেদ্দায় তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।
জেদ্দায় হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন। সেখানে জাতিসংঘের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের ২৩তম বিশেষ অধিবেশনের ফাঁকে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আসন্ন তুরস্ক সফরের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কের কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
ড্রোন ও গোলাবারুদ উৎপাদনে প্রযুক্তি সহায়তা
সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সময় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে একাধিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তি সই হতে পারে।
এর মধ্যে দেশে ড্রোন ও গোলাবারুদ উৎপাদনের জন্য তুরস্কের প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে তুরস্ক সফরের সময় এ ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করা হয়।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এমন এক সময়ে এগোচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের পর বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘মক্কা জোটে’ যোগ দেবে বাংলাদেশ?
প্রতিবেদনটির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরের আগেই ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেয়। সৌদি আরবের মক্কায় চুক্তিটি সই হওয়ায় এটি গণমাধ্যমে ‘মক্কা জোট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, তুরস্কের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও ড্রোন এবং পাকিস্তানের সামরিক জনবল ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে এই জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে জোটটির উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ রয়েছে। প্রতিবেদনে একটি বিশ্লেষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির ব্যয় কমিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আসছে।
এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানকে কেন্দ্র করে একটি আঞ্চলিক সামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র এই জোটকে সমর্থন করতে পারে। এতে সৌদি আরব অর্থ, তুরস্ক অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি এবং পাকিস্তান সামরিক জনবল দিতে পারে বলে ধারণাটি তুলে ধরা হয়েছে।
তবে আরেকটি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিকল্প অংশীদার খুঁজছে সৌদি আরব।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর প্রশংসা করেন। তিনি তিন দেশের চুক্তি স্বাক্ষরে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
জর্ডান ও মিসরকে যুক্ত করার উদ্যোগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত মধ্যপ্রাচ্যের এই সামরিক কাঠামোতে জর্ডান ও মিসরকেও যুক্ত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
জোটটিকে ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সেন্টো), যা ‘বাগদাদ চুক্তি’ নামেও পরিচিত ছিল, তার আদলে গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে দেখানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
এদিকে পাকিস্তান বাংলাদেশকেও এই জোটে যুক্ত করতে জোরালোভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পাকিস্তান সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে প্রতিরক্ষা চুক্তি করছে।
কুয়েতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানের
মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার পর পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করছে।
গত বৃহস্পতিবার কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আল-সাবাহ ইসলামাবাদ সফর করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেন।
কুয়েতের সামরিক বাহিনীর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিষয়ে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোই চুক্তিটির প্রধান লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে পাকিস্তান ও কুয়েত উভয় দেশই সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এসব হামলায় কুয়েত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান।
মক্কা জোটে পাকিস্তানের যোগদানের দুই সপ্তাহের মধ্যেই কুয়েতের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মধ্য দিয়ে পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় পাকিস্তান আরও বড় কৌশলগত ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্র- এনই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au