৪০ হাজার দৌড়বিদে জমজমাট সিডনি ম্যারাথন
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রায় ৪০ হাজার দৌড়বিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ২০২৬ সিডনি ম্যারাথন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দৌড়বিদদের অংশগ্রহণে রোববার (৩০ আগস্ট) পুরো সিডনি শহর…
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় ২০২৪ সালে ৩০ বছর বয়সী মাইকা মিলারের মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক এবার উঠে এসেছে নেটফ্লিক্সের তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘ডেথ অব দ্য পাস্তরস ওয়াইফ’-এ। কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করলেও, মৃত্যুর আগে তাঁর দাম্পত্য সংকট, হয়রানির অভিযোগ এবং পুলিশের কাছে করা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে ঘটনাটি এখনও আলোচিত।
মাইকা মিলারের মরদেহ ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল নর্থ ক্যারোলিনার লাম্বার রিভার স্টেট পার্কে পাওয়া যায়। এর ১০ দিন পর রোবেসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, সাক্ষাৎকার, ঘটনাস্থলের আলামত ও ময়নাতদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে মাইকার পরিবার ও বন্ধুদের কাছে বিষয়টি এত সহজ ছিল না। মৃত্যুর আগে তিনি স্বামী দক্ষিণ ক্যারোলিনার পাদরি জন-পল ‘জেপি’ মিলারের কাছ থেকে বিচ্ছেদের চেষ্টা করছিলেন। একই সময়ে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁকে অনুসরণ ও হয়রানি করা হচ্ছে। নিজের গাড়িতে একটি জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস পাওয়ার পর মাইকা পুলিশকে বলেছিলেন, তিনি নিজের জীবন নিয়ে ভয় পাচ্ছেন।
মাইকা ২০২৩ সালের অক্টোবরে জন-পলের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। পরে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ ও হয়রানির অভিযোগও জানান। ২০২৪ সালের মার্চে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ চেয়েছিলেন। ১৫ এপ্রিল আবার বিচ্ছেদের আবেদন করেন। এর মাত্র ১২ দিন পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।
মাইকা ও জন-পলের সম্পর্কের শুরুটিও ছিল বিতর্কিত। দুজনই তখন বিবাহিত থাকা অবস্থায় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তারা বিয়ে করেন। মাইকা তখন ২৩ এবং জন-পলের বয়স ছিল ৩৮ বছর। বিয়ের পর তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যায় বলে তথ্যচিত্রে মাইকার পরিবার ও বন্ধুদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
এদিকে মাইকার মৃত্যুর ঘটনায় জন-পলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও পরিবর্তন হয়নি। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি জন-পলের বিরুদ্ধে সাইবার-স্টকিং ও ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনে। প্রসিকিউটরদের দাবি, মাইকার মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে হয়রানি ও নজরদারি করা হয়েছিল। জন-পল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্রটিতে মাইকার ব্যক্তিগত ভিডিও, ডায়েরি এবং তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের সাক্ষাৎকার ব্যবহার করা হয়েছে। জুলিয়া উইলবি নাসন ও মাইকেল গ্যাসপারো পরিচালিত তিন পর্বের তথ্যচিত্রে মাইকার জীবন, দাম্পত্য সম্পর্ক, মৃত্যুর আগের ঘটনাবলি এবং তাঁর করা অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে। জন-পল এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
মাইকার মৃত্যুর সরকারি ব্যাখ্যা আত্মহত্যা হলেও, তাঁর মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। আর সেই প্রশ্নগুলোকেই নতুন করে সামনে এনেছে নেটফ্লিক্সের ‘ডেথ অব দ্য পাস্তরস ওয়াইফ’।য
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au