রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের তদন্তে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। সাবেক র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলায় জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সার্ভার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উদ্ধার হওয়া তথ্য থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য নতুন সূত্র পাওয়ার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, জব্দ করা এসব ডিভাইসে ২০০৭ সাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য, সার্ভার ডেটা ও মুছে ফেলা ফাইলের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু মুছে ফেলা তথ্যও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে তিন থেকে চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তানভীর হোসেন জোহা।
তদন্তে পাওয়া একটি বক্তব্য সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তানভীর হোসেন জোহার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন তৎকালীন র্যাব প্রধানের ড্রাইভিংয়ের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিকে বলা হয়েছিল, ‘আগামীকাল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং প্রয়োজন হলে তাকে ভোরে উপস্থিত থাকতে হবে। এর পরদিনই সাগর-রুনী হত্যার খবর পাওয়া যায়।
তবে ওই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আগে থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানতেন কি না, কিংবা হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। প্রসিকিউশনও বিষয়টিকে আপাতত তদন্তে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখছে।
প্রসিকিউটর তানভীর হোসেন জোহা বলেন, জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সার্ভারে বিপুল পরিমাণ পুরোনো তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু ফাইল মুছে ফেলা হলেও সেগুলোর একটি অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য আগে থেকেই প্রিন্ট করা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
তার দাবি, এসব তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের মধ্যে বিডিআর এবং তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন স্পর্শকাতর নথি ও তথ্য-উপাত্তের বিষয়ও উঠে এসেছে। এসব তথ্য কোনো ডিস্ক, টেপ বা মেমোরি ডিভাইসে সংরক্ষিত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, গুরুত্বপূর্ণ এসব ডিভাইস ও তথ্য যদি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারীদের হাতে আসে, তাহলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনা সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বা বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩ ধারায় কোন ধরনের অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচারের আওতায় পড়বে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড একটি বাসায় সংঘটিত সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হলে সেটি সরাসরি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে পড়ে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে চাননি তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো আবেদন করা হলে সেটি গ্রহণ করে আইনগতভাবে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্তে অন্য কোনো ঘটনার সূত্র ধরে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। তদন্তে কোনো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সামরিক কর্মকর্তা কিংবা র্যাব কর্মকর্তার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও উঠে এসেছে বলে জানান তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সাগর-রুনী হত্যা মামলার বাদী ও মেহেরুন রুনীর ভাই নওশের আলী রোমান জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোর সঙ্গে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচারিক এখতিয়ার কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সে বিষয়ে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত একটি বহুল আলোচিত মামলা এবং নিহত দুজনই সাংবাদিক হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে তারা আশা করছেন।
এ সময় সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র সন্তান মাহির সারওয়ার মেঘও উপস্থিত ছিলেন। তিনি চিফ প্রসিকিউটরের কাছে তার বাবা-মায়ের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী। হত্যাকাণ্ডের পর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এর রহস্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন করে ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে তথ্য উদ্ধার এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পাওয়া সূত্র তাই দীর্ঘদিনের এই আলোচিত মামলায় নতুন আশার পাশাপাশি নানা প্রশ্নও সামনে এনেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au