কুষ্টিয়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৯ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সাঈদ হোসেন ওরফে নান্নু (৪২) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে…
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তনগর ট্রেনের ক্যান্টিনে চলন্ত অবস্থায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্যান্টিনের কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে সান্তাহার রেলওয়ে থানা-পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ সদস্যও জড়িত ছিলেন। তাঁদের নাম উল্লেখ করে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাপথে। বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন নাটোর এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিকের বয়স ২২ বছর। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী যাত্রী ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁকে ট্রেনের খাবারের ক্যান্টিনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার একপর্যায়ে ওই নারী চিৎকার করলে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা বিষয়টি টের পান। তাঁরা ক্যান্টিনে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করেন। পরে তাঁকে সান্তাহার রেলওয়ে থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পরে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে আবু বক্করকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে ভুক্তভোগীর করা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের নাম আসায়। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনায় ক্যান্টিন কর্মচারীর পাশাপাশি ওই দুই পুলিশ সদস্যও জড়িত ছিলেন। সব মিলিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
তবে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী এবং ঘটনার সময় তাঁরা কোথায় ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী তাঁর অভিযোগে পুলিশ সদস্যদেরও জড়িত থাকার কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
মামলার পর সাংবাদিকেরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে থানায় যোগাযোগ করলেও পুলিশ তথ্য দিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের নাম থাকায় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সান্তাহার শহর প্রেসক্লাবের সভাপতি জিল্লুর রহমানের দাবি, সোমবার রাতেই তিনি এ বিষয়ে তথ্য জানতে থানায় গিয়েছিলেন। তখন মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর তথ্য দেওয়া হবে বলে তাঁকে জানানো হয়। পরে মামলাটি হলেও পুলিশ বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এই ঘটনায় এখন শুধু ক্যান্টিন কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়, মামলায় নাম আসা দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসার কথা। তাঁরা ঘটনার সময় ট্রেনে কী দায়িত্বে ছিলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ কীভাবে হয়েছিল, ক্যান্টিনে তাঁদের উপস্থিতির কারণ কী ছিল এবং ধর্ষণের অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কী প্রমাণ রয়েছে, এসব বিষয় তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ট্রেনের ক্যান্টিনে ওই সময় আর কারা ছিলেন, যাত্রীদের মধ্যে কারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পর কী ঘটেছিল, সেসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেনের অভ্যন্তরে থাকা কোনো ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত পাওয়া গেলে তদন্তে সেগুলোও যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে, আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলেও মামলায় নাম থাকা অন্য চারজনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। তাঁদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলাদা তদন্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাচ্ছে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au