বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর। ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরে মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায় আল-আকসা আকন বাড়ি জামে মসজিদের পাশে ইমামের থাকার ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদার গত পাঁচ দিন ধরে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি মসজিদে না থাকায় তাঁর থাকার ঘরটি খালি ছিল। ওই ঘরের চাবি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ মসজিদ কমিটির তিন সদস্যের কাছে ছিল বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ ইমামের থাকার ঘরের বারান্দা থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উড়ে যায়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোমার আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিস্ফোরণে ঘরের টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরণের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
১৭ দিনে তিন বিস্ফোরণ
সর্বশেষ ঘটনাটি নিয়ে গত ১৭ দিনে মাদারীপুরে তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। এর আগে ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
এরও আগে ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রাসাটির পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হয়।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি ধর্মীয় স্থাপনার পাশের ঘর এবং একটি পরিত্যক্ত ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। এসব ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার কিংবা সামাজিক দ্বন্দ্বের মতো বিষয়ও তদন্তে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিস্ফোরণের উৎস, ব্যবহৃত বিস্ফোরক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।