গোল্ডকোস্টে বিজিপিএএ অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছবিঃ এম এন হাসান সানি
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের গোল্ডকোস্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশী জেনারেল প্রাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (বিজিপিএএ)-এর বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন, ক্লিনিক্যাল ও এডুকেশনাল কনফারেন্স, গালা ডিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার (২৯ আগস্ট) দিনব্যাপী আয়োজনে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত দেড় শতাধিক বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকালে আয়োজন করা হয় বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও ক্লিনিক্যাল কন্টিনিউইং প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) সভা। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্সের (আরএসিজিপি) কুইন্সল্যান্ড চেয়ার ডা. ক্যাথেরিন হেস্টার।

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্সের (আরএসিজিপি) কুইন্সল্যান্ড চেয়ার ডা. ক্যাথেরিন হেস্টার। ছবিঃ এম এন হাসান সানি
সেমিনারে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকরা নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জেনারেল প্র্যাকটিশনারদের মধ্যে দিনব্যাপী প্রাণবন্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ডা. মাহবুবা খানম মুক্তা ও ডা. রেশমী সেহেলীর সঞ্চালনায় বৈজ্ঞানিক সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিপিএএ-এর সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজিদুল ইসলাম। পরে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ডা. পারভেজ খান এবং ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাইকমিশনার এফ এম বুরহান উদ্দিন।

সেমিনারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা করেন। ছবিঃ এম এন হাসান সানি
সেমিনারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আতিফুর রহমান, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. ফাহিদ হাশেম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম খন্দকার, নেফ্রোলজিস্ট ডা. শাহাদাত হোসেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শামা পারভীন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. পীযুষ সরকার এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুমতাহিনা সেতু।
আয়োজকরা জানান, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজিপিএএ অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি জেনারেল প্র্যাকটিশনারদের পেশাগত নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করে আসছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন বাংলাদেশি জেনারেল প্র্যাকটিশনার কর্মরত রয়েছেন।
বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও সিপিডি কার্যক্রম শেষে অনুষ্ঠিত হয় বিজিপিএএ-এর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ২০২৬।
সন্ধ্যায় নেরাং বাইসেন্টিনিয়াল হলে অনুষ্ঠিত হয় গালা ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ শিরোনামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিজিপিএএ-এর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় বাংলাদেশ হাইকমিশন, ক্যানবেরার হাইকমিশনার এফ এম বুরহান উদ্দিন, প্রবীণ জেনারেল প্র্যাকটিশনার ডা. আব্দুর রশীদ আলমগীর এবং ডা. কামাল উদ্দিন আহমেদকে।

‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ শিরোনামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। ছবিঃ এম এন হাসান সানি
ডা. নাহিদ সিনহা ও ডা. রুম্মন চৌধুরীর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে বর্ণিল। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসক এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, কবিতা ও নাট্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন ডা. নাকিবুল ইসলাম।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল ডা. জবার আবৃত্তি, ডা. রেশমী ও ডা. রত্নার ধ্রুপদি নৃত্য, ডা. রাপ্তি সারওয়াতের আধুনিক গান এবং ডা. পীযুষ ও ডা. খান মজলিসের ব্যান্ড পরিবেশনা। নতুন প্রজন্মের আনিরা, তাসনিয়া ও মীমের পরিবেশনাও দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রকহ্যাম্পটনের কয়েকজন চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দলীয় পরিবেশনা। গান ও নাচের সমন্বয়ে আয়োজিত এ পরিবেশনায় অংশ নেন ডা. মৌসুমী, জেভিয়ার, ডা. আরিফ, ডা. নাসমি, অন্তরা ও তাহসিন আলী।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রকহ্যাম্পটনের কয়েকজন চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দলীয় পরিবেশনা। ছবিঃ এম এন হাসান সানি
সন্ধ্যার শেষ পর্বে বিজিপিএএ-এর সাংস্কৃতিক কমিটির প্রযোজনা ও পরিচালনায় পরিবেশিত হয় কৌতুকধর্মী হাইব্রিড যাত্রাপালা। ঐতিহাসিক সিরাজউদ্দৌলা ও ঘষেটি বেগম থেকে শুরু করে সমকালীন জনপ্রিয় চরিত্র বাকের ভাই, মুনা ও বদির চরিত্রের উপস্থাপনা দর্শকদের ব্যাপক আনন্দ দেয়।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, আড্ডা ও দেশীয় খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজেদের সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত রাখার এই আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভিন্ন এক আবেগ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আগামী বছরের বিজিপিএএ-এর বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন, ক্লিনিক্যাল ও এডুকেশনাল কনফারেন্স, গালা ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘোষণা দিয়ে শেষ হয় ২০২৬ সালের বিজিপিএএ-এর বর্ণিল আয়োজন।