গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ এলে বাংলাদেশ তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রসারিত এই চুক্তি বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর জন্য একটি আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের সম্ভাব্য সদস্যপদকে তিনি ‘আমাদের পরিবারের, মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ নিয়ে বাইরের কারও প্রশ্ন বা উদ্বেগের কোনো ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন।
আমন্ত্রণটি শেষ পর্যন্ত রিয়াদ থেকে আসবে কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ‘মুসলিম পরিবার’-এর যুক্তিটি ইতোমধ্যে ঢাকার পক্ষ থেকে সামনে এসেছে। আর সমস্যার শুরু সেখানেই।
বাংলাদেশকে কোনো সামরিক জোটকে ধর্মীয় আত্মীয়তার ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করতে বলা হয়নি। মূল প্রশ্ন হলো, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যোগ দেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে কতটা কার্যকর হবে।
বিষয়টিকে ‘মুসলিম পরিবারের’ ব্যাপার হিসেবে উপস্থাপন করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে চুক্তি নিয়ে যৌক্তিক পর্যালোচনা ও সমালোচনাকে ধর্মের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখানোর ঝুঁকি থাকে। অথচ কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার আগে সেটি যাচাই করা পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্বগুলোর একটি।
বাংলাদেশ যদি কোনো সামরিক চুক্তির আওতায় নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করতে চায়, তাহলে সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, কেন সেটি বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিচয় নিজে কোনো নিরাপত্তাগত যুক্তি হতে পারে না।
বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র, ইসলামী প্রজাতন্ত্র নয়। সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেওয়া হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাও রয়েছে।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাংবিধানিক নীতিতে সার্বভৌমত্ব, সমতা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর অর্থ অবশ্যই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, এমন নয়। বরং সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান কিংবা অন্য কোনো মুসলিম দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখায় কোনো সমস্যা নেই।
কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব এক বিষয়, আর ধর্মীয় পরিচয়কে সামরিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তি বানানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
গত ৭ আগস্ট মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। তিন দেশেরই ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতার নিজস্ব কারণ রয়েছে। কিন্তু সেই কারণগুলো বাংলাদেশেরও নিজস্ব নিরাপত্তাগত স্বার্থ কি না, সেটিই ঢাকার বিবেচনা করা উচিত।
চুক্তিটি কেবল ভ্রাতৃত্বের প্রতীকী ঘোষণা নয়। এর মূল বিধান অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এটি অনেকটা ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো একটি যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি। অবশ্য মক্কা চুক্তির এখন পর্যন্ত ন্যাটোর মতো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বা সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা নেই।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চুক্তিটিকে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও এর মূল ধারার সঙ্গে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের তুলনা করেছেন।
একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে প্রতিরক্ষামূলক বলা এবং একই সঙ্গে স্বীকার করা যে এটি সদস্যদের অন্য কোনো দেশে শুরু হওয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে পারে, এই দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
আর এ কারণেই চুক্তিতে সই করার আগে এর বিস্তারিত শর্ত জানা জরুরি।
মক্কা চুক্তির আওতায় রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া তৈরির পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে।
কিন্তু ন্যাটোর মতো কোনো সমন্বিত সামরিক কমান্ড কাঠামো এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। কোনো সদস্য দেশ সংকটে পড়লে ভবিষ্যৎ সদস্যদের ঠিক কী ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকবে, সেটিও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
বাংলাদেশের মতো একটি দেশ স্বেচ্ছায় এমন কোনো চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে এসব বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কিছু অভিন্ন স্বার্থ খুঁজে পেলেও তাদের কৌশলগত বাস্তবতা এক নয়।সৌদি আরবের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের হুমকি এবং ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা।
তুরস্কের নিরাপত্তা হিসাব অনেকটাই নির্ধারিত হয় সিরিয়া, কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী, কৃষ্ণসাগর এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে। গ্রিসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধও তাদের কৌশলগত হিসাবের অংশ।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ আফগানিস্তান এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
অর্থাৎ তিন দেশের কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে কিছু মিল থাকলেও তাদের নিরাপত্তা সমস্যা অভিন্ন নয়। তারা এই রাজনৈতিক সমন্বয়কে একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপ দিতে পারে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। দেশের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ভারত, মিয়ানমার, বঙ্গোপসাগর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখা।
রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করলেই এসব সমস্যার কোনোটি সহজ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।বরং সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশের কোনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রয়োজনও নেই।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় জটিলতাটি উপসাগরীয় অঞ্চলে নয়, বরং দেশের পশ্চিম সীমান্তের ওপারে।পাকিস্তান মক্কা চুক্তির তিনটি প্রধান দেশের একটি। আর পাকিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারতের সঙ্গে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্ধারক হিসেবে ভারতের মনোভাবকে একমাত্র বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই। তবে এমন একটি সিদ্ধান্তে নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ভাবাও বাস্তবসম্মত হবে না।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এরই মধ্যে নানা কারণে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার অনুরোধ, সীমান্তে জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন না হওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের কাছে বাংলাদেশের পরবর্তী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক অর্থ বদলে দিতে পারে।
এর অর্থ অবশ্যই এই নয় যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা ভারতের অসন্তোষ দিয়ে নির্ধারিত হবে। বরং বাস্তবতা হলো, পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সৌদি আরব, তুরস্ক বা পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেই ভৌগোলিক বাস্তবতা নেই।
ইতিহাসও এ ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার কারণ দেখায়।
১৯৫৫ সালে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরাক সোভিয়েত প্রভাব ঠেকাতে পশ্চিমা সমর্থিত বাগদাদ চুক্তিতে যোগ দিয়েছিল। ১৯৫৮ সালের বিপ্লবের পর ইরাক চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে এর মূল কাঠামো ভেঙে পড়ে। পরে এর উত্তরসূরি সেন্টো (CENTO) ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত টিকে থাকলেও ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে কোনো বড় শক্তির কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ না হয়ে নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে সেই ভারসাম্য বজায় রাখা আরও কঠিন হতে পারে।
কারণ তখন বাংলাদেশ এমন তিনটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও কাছে চলে যাবে, যাদের ভারত, ইরান এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
বাংলাদেশের জন্য ইরানের গুরুত্ব মূলত অর্থনৈতিক, কৌশলগত নয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। বিপরীতে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি ডলার।
অর্থাৎ ঢাকার অর্থনৈতিক হিসাবেও ইরান ও সৌদি আরবের গুরুত্ব এক নয়। তাই অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিজেদের ওপর নেওয়ার প্রয়োজন বাংলাদেশের নেই।
আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপরীত অবস্থানে থাকা দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশ কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। কোনো পক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে যুক্ত না হয়েও সেই ভারসাম্য ধরে রাখা সম্ভব।
মক্কা চুক্তি যদি শেষ পর্যন্ত ইরানকে মোকাবিলার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে তাতে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের অর্জনের চেয়ে ঝুঁকিই বেশি হতে পারে।
এর অর্থ অবশ্যই এই নয় যে বাংলাদেশকে মক্কা চুক্তির উদ্যোক্তা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কমাতে হবে।বরং সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, সামরিক বিনিময়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ সৌদি আরবের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগকে স্বাগত জানাতে পারে। তুরস্কের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারে।
কিন্তু এসব সম্পর্কের জন্য এমন একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ধারায় সই করার প্রয়োজন নেই, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড বা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন কোনো সংঘাতে দেশটিকে পক্ষ নিতে বাধ্য করতে পারে।
তাই বাংলাদেশের সামনে প্রশ্নটি খুবই সরল:
মক্কা চুক্তিতে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ এমন কোন নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করবে, যা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে ইতোমধ্যে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়?যদি সেই হুমকি বঙ্গোপসাগর, মিয়ানমার সীমান্ত কিংবা বাংলাদেশের সরাসরি নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে সরকারকে সেটি স্পষ্ট করে বলতে হবে।
কিন্তু উত্তর যদি হয় বাংলাদেশ ‘মুসলিম পরিবারের’ অংশ, তাহলে সেটি কোনো নিরাপত্তা মূল্যায়ন নয়। এটি একটি পরিচয়ভিত্তিক যুক্তি, যাকে পররাষ্ট্রনীতির ভাষায় নিরাপত্তা নীতির ব্যাখ্যা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও বাস্তব নিরাপত্তা প্রয়োজন। কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সেই ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
জান্নাতুল নাঈম পিয়াল ঢাকাভিত্তিক সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক। পেশাদার সাংবাদিকতায় তার এক দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ১০টি প্রকাশিত বইয়ের লেখক এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম শিল্প ও এর সঙ্গে বৃহত্তর সামাজিক ও একাডেমিক ক্ষেত্রের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন।
সূত্র:এশিয়া টাইমস