মধ্য-আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে প্রাণঘাতী ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশটিতে এই রোগে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ১৮৬ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ৩ হাজার ৭ জন।
চলতি বছরের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর সংক্রমণ আরও আগে শুরু হয়ে থাকতে পারে। প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ থেকে ভাইরাসটি ইতোমধ্যে ছয়টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে এটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্বের হিসাবে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা মহামারি। এর চেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া মহামারি। গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ওই প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আরও ৮৩০ জন চিকিৎসা বা আইসোলেশনে রয়েছেন।
কঙ্গো সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা সম্মিলিতভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে দেশটির পূর্বাঞ্চলের সংঘাত, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অনাস্থার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া খনি শ্রমিকদের ব্যাপক চলাচলও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক রোগী চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই মারা যাচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় প্রায় ৬০ শতাংশ মৃত্যু চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে ঘটছে। এতে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং তাঁদের চিকিৎসার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরন। এই ধরনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে নতুন টিকা ও অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।
এরই মধ্যে কঙ্গোতে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে মার্কের তৈরি এরভেবো টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। টিকাটি ইবোলার জাইরে ধরনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত। তবে বুন্দিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধেও এটি কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে বলে প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঙ্গোতে স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য এই টিকার ৭০ হাজার ডোজ পাঠিয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রুত নতুন রোগী শনাক্ত করা, আক্রান্তদের চিকিৎসার আওতায় আনা এবং সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া। তবে চলমান সংঘাত ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে সেই প্রচেষ্টা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ছে।
সূত্র: রয়টার্স