জলাধারে রহস্যময় ভাসমান দ্বীপ, কয়েক দিন পরই উধাও
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় একটি জলাধারে হঠাৎ দেখা মিলেছিল গাছপালায় ভরা একটি বিশাল ভাসমান দ্বীপের। কিন্তু যেভাবে রহস্যজনকভাবে দ্বীপটির আবির্ভাব হয়েছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি আবার…
জুলাই আন্দোলনের সময় লুট হওয়া পুলিশের ১ হাজার ৩১১টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। একই সময়ে বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে ৬৯০ জনও এখন পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব অস্ত্র ও পলাতক আসামিদের একটি অংশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশের ধারণা, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ দেশের বাইরে পাচার হয়ে থাকতে পারে। অপরাধ বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং কারাগার থেকে পালানো আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
পুলিশের হিসাবে, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ১০৯টি চায়নিজ রাইফেল ও ৩০টি এসএমজি রয়েছে। এসব অস্ত্রের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদও এখনো উদ্ধার হয়নি। উদ্ধার হয়নি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১২৫টি গুলি।
অন্যদিকে, কারাগার থেকে পালানো ২ হাজার ২৪৭ জনের মধ্যে ৬৯০ জন এখনো পলাতক। আরও ১৬৬ জনের কোনো নথি পাওয়া যাচ্ছে না। পলাতকদের অনেকেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ৭৬টি মামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৪৭টি। এ বছরের প্রথম সাত মাসে গুলির ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৯ জন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খুনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি। এসব ঘটনায় ভাড়াটে খুনি, চরমপন্থি এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুদের সম্পৃক্ততার তথ্যও সামনে এসেছে।
পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। লুট হওয়া অস্ত্রের কিছু দেশের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক সদস্যদের কেউ কেউ বলছেন, অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতকদের গ্রেপ্তারে বাহিনীগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, পেশাগত সমন্বয়ের ঘাটতি এখনো রয়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত এ সমস্যা দেখা যায়। শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।
সাবেক র্যাবপ্রধান এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে, যা অবশ্যই হুমকির কারণ। অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সম্প্রতি সারা দেশে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অস্ত্র ও পলাতক আসামিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করলে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং শত শত পলাতক বন্দি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এসব অস্ত্র ও আসামিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা কতটা সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au