নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় মৃত বেড়ে ১,২২৫, নিখোঁজ ৪,৭৫৭
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ১ হাজার ২০৪ জন এবং তিব্বতে ২১…
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২০২৭ সালের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান। আগামী বছর এসসিওর চেয়ারম্যান দেশ হিসেবে সম্মেলনের আয়োজন করবে ইসলামাবাদ। সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি মোদীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক যুগ পর ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে মোদীর পাকিস্তান সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলন শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান সংগঠনটির পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালে এসসিওর রাষ্ট্রপ্রধানদের বার্ষিক সম্মেলন পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে। সেই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ইসলামাবাদ। এর অংশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, সন্ত্রাসবাদ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সম্ভব নয়।
বিশকেকের এসসিও সম্মেলনেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মোদী। পাকিস্তানের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদত এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে সদস্য দেশগুলোর আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। ভারতের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও এসসিও সম্মেলনে ভারতকে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। তিনি পানি বণ্টনকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু নদের পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফলে বিশকেক সম্মেলনে মোদী ও শেহবাজের বক্তব্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাত না থাকলেও দুই দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে সন্ত্রাসবাদ, অন্যদিকে পানি বণ্টন, দুই ইস্যুতেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে যোগ দেননি নরেন্দ্র মোদী। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে অংশ নেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফলে ২০২৭ সালের সম্মেলনে মোদী নিজে ইসলামাবাদে যাবেন কি না, সেটিই এখন কূটনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদী মাত্র একবার পাকিস্তান সফর করেছেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আফগানিস্তান সফর শেষে দেশে ফেরার পথে আকস্মিকভাবে লাহোরে অবতরণ করেন তিনি। তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছিলেন মোদী। তবে পরবর্তী সময়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আবারও তীব্র উত্তেজনার মধ্যে পড়ে।
গত এক দশকে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি, সীমান্ত উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে বিরোধের কারণে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগও সীমিত হয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মোদী ইসলামাবাদে গেলে সেটি শুধু এসসিও সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয় থাকবে না, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।
তবে এখনই মোদীর পাকিস্তান সফর নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ২০২৭ সালে সম্মেলনের সময়কার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, সন্ত্রাসবাদ ইস্যু এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই নয়াদিল্লি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ ঘিরে আপাতত মূল প্রশ্ন একটাই, এসসিওর মঞ্চে যোগ দিতে কি ১২ বছর পর আবার পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী?
সূত্র: টিভি নাইন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au