স্পেনের উপকূলে ভাসমান নৌকা থেকে ৮০ মরদেহ উদ্ধার
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে ভাসমান একটি নৌকা থেকে ৮০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। একই নৌকা থেকে ৪৪ জনকে…
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরে তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে এবং নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করতে প্রস্তুত। তবে তিনি ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া চান।
রাজনৈতিকভাবে কীভাবে দেশে ফিরবেন এবং পরবর্তী সময়ে কী ধরনের কর্মকৌশল নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা চলছে এবং সব সিদ্ধান্ত দায়িত্বশীলভাবে নেওয়া হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের ‘ব্যাকচ্যানেল আলোচনা’ চলছে না বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, যারা তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের সঙ্গে গোপন আলোচনার প্রশ্নই আসে না।
দেশে ফেরার পর নিজের নিরাপত্তা, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া এবং ন্যায়সংগত বিচারের নিশ্চয়তা চান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিচার যেন আগে থেকেই নির্ধারিত কোনো রায়ের দিকে পরিচালিত না হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু হলেও বাংলাদেশই তার মাতৃভূমি। তিনি বলেন, ‘ভারত একজন বন্ধু, আর বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। আমি চিরকাল দেশের বাইরে থাকতে পারি না।’
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার ব্যাখ্যায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে তিনি তার পুরো রাজনৈতিক জীবন কাটিয়েছেন। কারাবরণ, নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশের মানুষ যখন ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে, তখন দেশের বাইরে থাকার উদ্দেশ্যে তিনি রাজনীতিতে আসেননি।
তিনি বলেন, এ কারণেই তিনি দেশে ফিরতে চান এবং এই সংকটময় সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান। একই সঙ্গে আদালতের মুখোমুখি হয়ে নিজের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন করার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।
শেখ হাসিনার অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের গ্রেপ্তার, মামলা, চাকরি থেকে বরখাস্ত, হামলা, হুমকি ও সহিংসতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং অনেকে দেশও ছেড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এসব মানুষকে তিনি ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
আওয়ামী লীগের নেতারা কীভাবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়েও শেখ হাসিনা বলেন, কেউ আগে ফিরবেন কি না, নেতারা একসঙ্গে নাকি ধাপে ধাপে দেশে ফিরবেন, সেগুলো সাংগঠনিক ও বাস্তবিক বিষয়। এসব সিদ্ধান্ত দায়িত্বশীলভাবে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, দলটি বাংলাদেশ ও দেশের জনগণকে ছেড়ে যাবে না এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামও পরিত্যাগ করবে না। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতি জনগণের সঙ্গে যুক্ত এবং দলটি জনগণের কাছেই ফিরে যাবে।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতির ওপর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au