সুড়ঙ্গে ৯ দিন: ‘সবাইকে বাঁচাতে গিয়েই আমার সময় ফুরিয়ে গেল’
নেপালের নুয়াকোটে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে নয় দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন দুই শ্রমিক। তাঁদের একজন সঞ্জয় সাহ। গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক পাহাড়ি…
সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবর ১৯৭১ সালে কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা সে সময় অনেক মানুষের জীবন, সম্পদ ও বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন।
বাবার রাজনৈতিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে আসিফ জানান, আলী আকবর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও তিনি মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
আসিফ বলেন, মুসলিম লীগের নেতা হওয়ার কারণেই ১৯৭১ সালে তার বাবার শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল। তবে ওই সময় তিনি মানুষের জানমাল রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন আসিফ।
তার ভাষায়, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার প্রভাবশালী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে শান্তি কমিটিতে থাকার উসিলায় তিনি অনেকের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছেন।’
বাবার ভূমিকার পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন আসিফ। তার দাবি, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।
আসিফ জানান, এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আলী আকবরের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সম্পর্ক কেমন ছিল, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি এভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
তার দাবি, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে আলী আকবরের ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন। একই সঙ্গে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় তার বাবার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আসিফ বলেন, ‘যেহেতু তিনি অনেকের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষ বলা যায় না। মুসলিম লীগের একজন সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।’
১৯৭১ সালের পাশাপাশি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা জানান আসিফ।
তার দাবি, ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে আলী আকবর একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
তবে সেই চিঠিটি বর্তমানে পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তার ভাষ্য, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক নথি ও কাগজপত্র তখন সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে তার বড় ভাইয়েরা ওই ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাধীনতার পর আলী আকবরের কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাটিও ব্যাখ্যা করেন আসিফ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার কারণে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
আসিফ জানান, সে সময় নতুন করে অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই পরামর্শের পর ১৭ ডিসেম্বর আলী আকবর নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।
আসিফ জানান, পরবর্তী সময়ে তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
তার দাবি, ১৯৭৪ সালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আলী আকবর এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান।
আসিফের ভাষ্য, সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে নয়, আদালতে আইনি লড়াই করেই তার বাবা মুক্তি পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে দালাল আইনের অধীনেও আলী আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বা কোনো সাজা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে আলী আকবরের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা, শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আসিফের এসব বক্তব্য তার নিজস্ব দাবি ও পারিবারিক বর্ণনার ভিত্তিতে দেওয়া।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au