নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই হিন্দু চিকিৎসকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত (৩১) নামে এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই…
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ১৩৯ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ১৪৩ জন রয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২২৫ জন।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ১৫৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৮ জন, খুলনা বিভাগে ২৩৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮১ জন, রংপুর বিভাগে ৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯৯ জন এবং সিলেট বিভাগে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৯০৪ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪০ হাজার ৭০৯ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। এ সময়ের মধ্যে ২০২৩ সালে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। একই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুও ছিল সর্বাধিক, ১ হাজার ৭০৫ জন।
গত বছরও দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল উল্লেখযোগ্য। সে বছর চার শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে মারা যান এবং প্রায় ১ লাখ ২ হাজার আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মাত্র সাত দিনে ২৪ জনের মৃত্যু এবং প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় এডিস মশাবাহিত রোগটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au