শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থীকে এর আগেও কয়েকবার একই ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করেছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে আবারও তাকে কক্ষে ডেকে নেওয়া হলে কৌশলে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কাউনিয়া থানায় মামলা হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল হাকিম (২৪) পলাতক রয়েছেন। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে এক শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে ম্যাসাজ করার একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর আগে আরও কয়েকবার অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে একইভাবে কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে সে।
শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই তাকে কক্ষে ডেকে শরীর ম্যাসাজ করতে বলতেন। এতে রাজি না হলে রড ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ তার।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই শিক্ষার্থীকে আবারও কক্ষে ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে ফের নির্যাতনের চেষ্টা করা হলে সে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সরাসরি বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনা জানায়।
বিষয়টি জানার পর স্বজনেরা ওই রাতেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানান। অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হলেও পরদিন সকালে শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর অভিভাবকেরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে শালিস হওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে যান। পরে শালিস শুরু হওয়ার আগেই সবার অগোচরে মাদ্রাসা থেকে চলে যান আজিজুল হাকিম।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান। তার দাবি, তিনি ওই শিক্ষককে পালিয়ে যেতে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। কীভাবে আজিজুল হাকিম সবার অগোচরে মাদ্রাসা থেকে চলে গেছেন, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ওই মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেসব ঘটনা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ধামাচাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এসব অভিযোগেরও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারা বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকে। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও প্রতিষ্ঠানের। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার কাউনিয়া থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল হাকিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার অবস্থানও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় অতীতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, স্থানীয়দের করা সেই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au