ইরানের ২৭ এয়ারলাইনসহ ৩৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে দেশটির ২৭টি এয়ারলাইনসহ মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে…
অস্ট্রিয়ায় তথাকথিত ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে দেশটির সরকার। চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার এ ধরনের আইন প্রণয়নের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর ইন্টিগ্রেশন ও ইউরোপ বিষয়ক মন্ত্রী ক্লাউডিয়া বাউয়ার জানিয়েছেন, তিনি ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদারদের জন্য একটি প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করবেন।
অস্ট্রিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম ORF গত ৩০ আগস্ট প্রথম জানায়, বাউয়ার প্রস্তাবটির একটি রূপরেখা তৈরি করছেন এবং তা জোটের অংশীদার SPÖ ও NEOS-এর কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাউয়ার নিজেও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ২৮ আগস্ট Heute-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চ্যান্সেলর স্টকার ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ মোকাবিলায় সাংবিধানিক আইন করার ইচ্ছার কথা জানান। তাঁর ভাষায়, ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ গণতন্ত্র ও পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
স্টকার বলেন, “আমি চাই না আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিরা একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে বড় হোক।”
তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, অস্ট্রিয়ায় প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম বা বিশ্বাস অনুসরণ করতে স্বাধীন।
স্টকারের ভাষায়, “কিন্তু যেখানে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হয়, যেখানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার থাকে না এবং যেখানে আমাদের প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ ও আদালতকে সম্মান করা হয় না—সেখানে সেই স্বাধীনতার সীমা শেষ হয়ে যায়।”
স্টকার ভিয়েনার স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর অনুপাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েনার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর হার ৪১.২ শতাংশ, যা ধর্মীয় পরিচয়ের হিসাবে সবচেয়ে বড় একক গোষ্ঠী।
তিনি বলেন, “মূল প্রশ্ন হলো—এই শিক্ষার্থীরা কি এমন গণতান্ত্রিক নাগরিক হয়ে উঠবে, যারা আমাদের আইনি ব্যবস্থা মেনে চলবে এবং সমাজের সঙ্গে সহাবস্থান করবে? নাকি তারা ইসলামপন্থী হয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হবে?”
স্টকার আরও বলেন, “এই দেশে এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া যায় না যেখানে পার্লামেন্টের পরিবর্তে কোনো ধর্মীয় প্রচারক নির্দেশনা দেবেন।”
তিনি স্কুলে মেয়েদের পোশাক বা আচরণ নির্ধারণে তথাকথিত ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর প্রভাব এবং ‘অনার কিলিং’ বা সম্মানরক্ষার নামে হত্যাকাণ্ডের পেছনের মতাদর্শিক কারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্টকারের বক্তব্য পুনরায় শেয়ার করে মন্ত্রী ক্লাউডিয়া বাউয়ার লেখেন, “রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের হাতে থাকা সব উপায়ে লড়াই করব।”
এর আগে ২০২৬ সালের মার্চে অস্ট্রিয়ার ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টি বা FPÖ ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিষিদ্ধ করতে একটি কঠোর প্রস্তাব দিয়েছিল।
সেই প্রস্তাবে ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ বা এর উদ্দেশ্যকে সমর্থনকারী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা, সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত মসজিদ ও সংগঠন বিলুপ্ত করা, তাদের সম্পদ জব্দ করা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সদস্য বা সমর্থকদের অস্ট্রিয়ান নাগরিকত্ব বাতিল করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ ছিল।
তবে বর্তমান সরকারি উদ্যোগটি এখনও প্রস্তাব তৈরির পর্যায়ে রয়েছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক ইসলাম’-এর আওতায় রাখা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আইনি কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অস্ট্রিয়ায় ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিয়ে দীর্ঘদিনের নজরদারি
অস্ট্রিয়া বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিয়ে গবেষণা ও নজরদারি চালিয়ে আসছে। ২০২০ সালে দেশটি Documentation Centre for Political Islam বা Dokumentationsstelle Politischer Islam প্রতিষ্ঠা করে।
কেন্দ্রটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ এমন একটি মতাদর্শ, যার উদ্দেশ্য ইসলামিক বলে দাবি করা নির্দিষ্ট মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র, নীতি ও রাজনীতিকে প্রভাবিত বা পরিবর্তন করা। কেন্দ্রটি দাবি করে, এসব মূল্যবোধ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের অভিন্ন অবস্থান নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে তা আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কাজ হলো অস্ট্রিয়ায় সক্রিয় ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর ওপর সম্ভাব্য বিদেশি প্রভাব নিয়ে গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা।
এর গবেষণায় অস্ট্রিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডের ভূমিকা, তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর Diyanet-এর প্রভাব এবং হিজবুল্লাহ ও হামাস সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।
Source: The Times of Israel
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au