বাংলাদেশে দুই দিনে যৌন নিপীড়নের ৭৮ অভিযোগ, বেশিরভাগই মাদ্রাসার
“খুবই ছোটকালে শুরু, লজিং হুজুর সকালে পড়া থেকে তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে…। হুজুরের পরিবর্তন হয় কিন্তু আমার ভাগ্যের পরিবর্তন হতো না। মাদ্রাসার বোডিং এ…
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির অতীত শাসনামল ও বিভিন্ন অনিয়মের সমালোচনা করে রুমিন বক্তব্য দেওয়ার সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
বুধবার ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন রুমিন ফারহানা। এবার তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে রয়েছেন।
বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না।’
তাঁর এ বক্তব্যের পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তবে রুমিন বক্তব্য চালিয়ে গিয়ে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না, মাননীয় স্পিকার।’
এ সময় সংসদে হইচই আরও বেড়ে যায়। রুমিন বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হইতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।’
বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতিবাদের মধ্যে রুমিন বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা, মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’
এরপর সংসদের সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন রুমিন। তিনি বলেন, ‘এই সংসদে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি।’
এ সময় রুমিনের জন্য নির্ধারিত বক্তব্য দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেলে তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে সংসদে হইচই চলতে থাকে এবং রুমিন মাইক ছাড়াই বক্তব্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে।
স্পিকার তাঁকে বারবার বসার অনুরোধ জানালেও রুমিন দাঁড়িয়ে থেকে কথা বলতে থাকেন। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। মাইক ছাড়া তাঁকে বলতে শোনা যায়, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।
হট্টগোলের মধ্যে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও এ সময় দাঁড়িয়ে কথা বলেন। তবে কিছু সময় ধরে সংসদে হইচই অব্যাহত থাকে।
বক্তব্য দেওয়ার স্বাধীনতা আছে: ডেপুটি স্পিকার
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখছেন এবং তাঁর কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। অন্য সদস্যরা তাঁর বক্তব্যে বাধা দিলে তা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে চলে যায়।
চিফ হুইপের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে, তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।’
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে সভাপতির আসন থেকে তা বাদ দেওয়া যেতে পারে। তবে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। একই সঙ্গে চিফ হুইপ হিসেবে সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বের কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
পরে বিলের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানকে আহ্বান জানানো হয়। তখনও সংসদে হইচই চলছিল। এ সময় রুমিন ফারহানা ও আবদুল হান্নান মাসউদকে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে দেখা যায়। পরে স্পিকারের অনুরোধে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে শেখ মুজিবুর রহমান বক্তব্য দেন।

জাতীয় সংসদ। ছবিঃ সংগৃহীত
অসংসদীয় হলে স্পিকার ব্যবস্থা নিতে পারেন: বিরোধী দলীয় নেতা
পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার সে বিষয়ে রুলিং দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও এর জবাব দিতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘আজকে উনি কি বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কী গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন?’
এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁরা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান। কিন্তু সংসদ সদস্যরা নিজেরাই যদি সমস্যা তৈরি করেন, তাহলে সেটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য যখন বক্তব্য দেন, তখন তাঁর নিজেরও কিছুটা দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। মাত্র কয়েক দিন আগেও রুমিন ফারহানা বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘চিফ হুইপ হিসেবে আপনারও কিন্তু রেসপন্সিবিলিটি আছে, হুইপিং দ্য মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট। একজন সম্মানিত সদস্য উনি কথা বলতে পারবেন। অসংসদীয় হলে সেটা এই চেয়ার থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে। কিন্তু সেটাকে বাধাগ্রস্ত করা, এটা ঠিক না। আর চিফ হুইপ হিসেবে আপনার মূল দায়িত্ব হাউসের শৃঙ্খলা রাখা।’
‘সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা হয়েছে’: অর্থমন্ত্রী
পরে বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো বিষয়টা কী সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি কী বললাম, আলোচনা কী হলো?’
সংসদে ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে একটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা চলে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
পরে আবারও বক্তব্য দেন রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেছেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রুমিনের বক্তব্য ও তা ঘিরে বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতিবাদের ঘটনায় বুধবার কিছু সময়ের জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ডেপুটি স্পিকার বারবার সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং সংসদীয় রীতিনীতি মেনে প্রত্যেক সদস্যকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au