শাহরুখ-সালমানের নায়িকা নগমা, নতুন চেহারায় কেন অবাক অনুরাগীরা?
নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের শুরুর দিকে বলিউডের পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেত্রী নগমা। শাহরুখ খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমারের মতো তারকাদের সঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয়…
কারাগারে থাকা সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে হাটহাজারীর মেখল এলাকার শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে যান তিনি।
মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার অনুমতি দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এ অনুমোদন দেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, প্যারোলের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন।
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মায়ের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন চিন্ময়। পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছানোর পর তিনি মন্দিরে যান এবং মায়ের মরদেহের সামনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
চিন্ময়ের মায়ের শেষকৃত্য ঘিরে পুণ্ডরীক ধাম ও আশপাশের এলাকায় ভক্ত-অনুসারীদের ভিড় দেখা যায়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেকে সেখানে অবস্থান করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে ৭২ বছর বয়সী সন্ধ্যা রানী ধর পুণ্ডরীক ধামে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। মৃত্যুর আগে পুণ্ডরীক ধামে গিয়ে শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
মায়ের গুরুতর অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল চিন্ময়ের পরিবার। বুধবার তাঁর বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তবে অসুস্থ স্বজনকে দেখতে প্যারোল দেওয়ার আইনি সুযোগ নেই জানিয়ে সেই আবেদন নাকচ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু হলে শেষ বিদায় বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্যারোলের বিধান রয়েছে।
মায়ের মৃত্যুর পর অবশ্য সেই বিধান অনুযায়ী চিন্ময়ের জন্য প্যারোলের ব্যবস্থা করা হয়। কয়েক ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেয়ে তিনি মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করা হয়। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ওই মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
চিন্ময়ের গ্রেপ্তারের পর তাঁর জামিনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। পরে তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
বর্তমানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর দুটি মামলায় জামিন হলেও অন্য মামলায় বিচারাধীন থাকায় তিনি মুক্তি পাননি।
মায়ের মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিষয়টি। মায়ের মরদেহের সামনে তাঁর কান্নার দৃশ্যও উপস্থিত ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au