বিশ্ব

দিল্লিতে মোদির আপ্যায়নে পুতিন-সি

ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ডলারের আধিপত্যের সামনে দিল্লিতে কতটা সফল হবে ব্রিকস সম্মেলন?

  • 5:39 am - September 12, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৪ বার
(বাঁ দিকে) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

নয়াদিল্লিতে যখন বিশ্বের উদীয়মান শক্তিগুলোর অন্যতম জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন বসছে, তখন সম্মেলনের টেবিলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আসন নেই। কিন্তু আলোচনার বাইরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে ওয়াশিংটনকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে চাপ, ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন ডলারের আধিপত্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা এমন এক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার প্রভাব ব্রিকসের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পড়ার কথা।

শনিবার থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের এই সম্মেলনে একদিকে থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মতো নেতারা, অন্যদিকে স্বাগতিক ভারত চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখেই ব্রিকসকে আরও কার্যকর ও প্রভাবশালী একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরতে। ফলে এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু ব্রিকস কী ঘোষণা দেবে তা নয়, বরং সদস্যদেশগুলোর ভিন্নমতের মধ্যে ভারত কতটা ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে।

ব্রিকস এখন আর আগের সেই ছোট পরিসরের জোট নয়। চীন, রাশিয়া, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে এর পরিধি বেড়ে এখন ১১টি সদস্যদেশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। সৌদি আরবকেও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে। সদস্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোটটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি একমত হওয়ার সমস্যাও জটিল হয়েছে।

এই বৈপরীত্যই দিল্লির সম্মেলনের প্রধান বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতা করে শক্ত অবস্থান নেওয়ার মতো অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে নেই। রাশিয়া ও ইরান হয়তো ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট ভাষা দেখতে চাইবে। কিন্তু ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে থাকায় প্রকাশ্য সংঘাতের ঝুঁকি নিতে চাইবে না। চীনও ব্রিকসকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে সতর্ক থাকবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং (ডানে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবিঃ রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব মোকাবিলা করা সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন কোনো ঘোষণার পক্ষে যাবে কি না, যা তেহরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। ফলে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থে নয়, ভূরাজনীতিতেও স্পষ্ট।

আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বাস্তবতায় ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়া ভারতের জন্য সহজ হবে না। তাঁর মতে, সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য এতটাই বড় যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নীতির সমালোচনা হলেও তা সম্ভবত অস্পষ্ট ও পরোক্ষ ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্রিকসের সামনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে কোনো কৌশলগত আলোচনা নেই। বরং ট্রাম্পের নীতিই জোটটির পুরোনো একটি বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে, আর তা হলো আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কতটা কমানো সম্ভব।

ব্রিকসের দেশগুলো গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মুদ্রায় আন্তঃদেশীয় লেনদেন বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। রাশিয়া ও ইরানের মতো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারলে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও কিছুটা মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে।

এই উদ্যোগ নিয়েই ট্রাম্প আগেই কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি বলেছিলেন, ব্রিকসের দেশগুলো যদি মার্কিন ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা বা ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেয়, তাহলে তাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ফলে দিল্লিতে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, আন্তঃদেশীয় অর্থপ্রবাহ এবং বিকল্প আর্থিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হলে ওয়াশিংটনের নজর যে সেদিকে থাকবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

তবে ডলারের বিকল্প তৈরি করা এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এক বিষয় নয়। ব্রিকসের দেশগুলোর অর্থনীতি, মুদ্রাব্যবস্থা, ব্যাংকিং কাঠামো এবং পারস্পরিক আস্থার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ফলে দ্রুত কোনো বিকল্প বৈশ্বিক মুদ্রাব্যবস্থা তৈরি করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং ধীরে ধীরে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করাই হতে পারে জোটটির বাস্তবসম্মত পথ।

এই জায়গায় ব্রিকসের ইতোমধ্যে তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জোটটির উদ্যোগে গঠিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল অর্থায়ন করেছে। পাশাপাশি সদস্যদেশগুলোর আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি ডলারের একটি জরুরি মজুত ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই তহবিল ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি, কিন্তু পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে নিজেদের সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে এটি ব্রিকসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

পুতিন ও মোদি।ছবি : রয়টার্স

এবারের সম্মেলনে তাই শুধু ভূরাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সহজ করা, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানোর দাবিও ব্রিকসের দীর্ঘদিনের এজেন্ডার অংশ। জোটটির সদস্যদের যুক্তি হলো, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তৈরি হয়েছিল, বিশ্ব এখন তার চেয়ে অনেক বেশি পরিবর্তিত। ফলে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।

এই দাবির নেতৃত্ব দিতে চায় ভারত। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে বৈশ্বিক দক্ষিণের অন্যতম প্রধান কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং অপেক্ষাকৃত উন্মুক্ত বৈশ্বিক বাণিজ্যের পক্ষে ভারতের অবস্থান এ লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এখানেও ভারতের সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশে অবকাঠামো বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেইজিং ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ফলে ব্রিকসকে ব্যবহার করে বৈশ্বিক দক্ষিণে নিজের প্রভাব বাড়াতে চাইলেও ভারতকে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে।

সম্প্রসারিত ব্রিকস অবশ্য সেই সুযোগও তৈরি করেছে। ইথিওপিয়া, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার মাধ্যমে ভারত আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় নিজের কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়াতে পারে। কিন্তু সেটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নয়াদিল্লি শুধু সম্মেলন আয়োজনের বাইরে কতটা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারত্ব তৈরি করতে পারে তার ওপর।

সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে পারে সম্মেলনের শেষের যৌথ ঘোষণাপত্র। ব্রিকসের সদস্যসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিষয়ে সবাইকে একমত করানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ পাওয়া গেছে চলতি বছরের মে মাসে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত যৌথ ঘোষণার বদলে ভারত সম্মেলনের সভাপতির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে।

দিল্লি অবশ্য এর আগে বড় ধরনের বিভক্তি সামাল দেওয়ার নজির দেখিয়েছে। ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত একটি যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য আনতে সক্ষম হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এবার ব্রিকসের ক্ষেত্রেও কাজে লাগাতে চাইবে নয়াদিল্লি।

তবে জি-২০ এবং ব্রিকসের পরিস্থিতি এক নয়। জি-২০তে পশ্চিমা ও উন্নয়নশীল বিশ্বের শক্তিগুলো একই প্ল্যাটফর্মে থাকলেও ব্রিকসের বর্তমান সম্প্রসারণ এটিকে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে জটিল করেছে। কোনো কোনো সদস্য রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ, কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, আবার কেউ চীনের সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রয়েছে। ফলে একটি বিষয়ে সম্মিলিত অবস্থান নেওয়া মানেই অন্য কোনো সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে আঘাত করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এই বাস্তবতায় ব্রিকসের জন্য বড় সাফল্য হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে কোনো কঠোর ঘোষণা দেওয়া নয়। বরং সদস্যদেশগুলোর পার্থক্য অতিক্রম করে এমন কিছু বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে জোটটির অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়ায়।

ব্রিকসের গুরুত্বের পেছনে এর আকারও একটি বড় কারণ। জোটভুক্ত দেশগুলো মিলিয়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও তাদের অংশ প্রায় ২৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই বোঝায়, ব্রিকসকে আর কেবল আলোচনার একটি মঞ্চ হিসেবে উপেক্ষা করা সহজ নয়।

তবে বড় হওয়ার সঙ্গে প্রভাবশালী হওয়ার পার্থক্যও রয়েছে। বিশাল জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব থাকলেই একটি জোট বৈশ্বিক শক্তির বিকল্প হয়ে যায় না। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা, পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যও প্রয়োজন। ব্রিকসের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখন সেখানেই।

দিল্লির সম্মেলনে তাই পুতিন ও শি চিনপিংয়ের উপস্থিতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হবে ভারত-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তন। সীমান্ত উত্তেজনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে দুই দেশ এখন ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক বিশেষ নজর কাড়বে।

পুতিনের সঙ্গে মোদির আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একই সময়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা নয়াদিল্লির জন্য অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোও ভারতের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনকে ঘিরে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার বাইরে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কূটনৈতিক। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ভারতের আঞ্চলিক নেতৃত্বের দাবিকে নতুন প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলন ভারতের জন্য শুধু একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন নয়, নিজের বৈশ্বিক অবস্থান পুনরায় তুলে ধরারও একটি সুযোগ।

কুগেলম্যানের বিশ্লেষণেও এই দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সম্মেলনটি ব্রিকসের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ভারতের জন্য কোনো কোনো দিক থেকে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নয়াদিল্লি এই আয়োজনের মাধ্যমে দেখাতে চায়, ভারত একই সঙ্গে পশ্চিমা শক্তি, রাশিয়া, চীন এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র ভূমিকা পালন করতে পারে।

এই কারণেই দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আসল লড়াই হয়তো কোনো একটি ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। লড়াই হবে জোটটি ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে তা নিয়ে। এটি কি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা ব্যবস্থার বিকল্প একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হয়ে উঠবে, নাকি ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টিকে থাকবে?

আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সম্মেলনের টেবিলে বসতে না হলেও তাঁর নীতির প্রভাব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। শুল্ক, ডলার, ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার ছায়া দিল্লির আলোচনাতেও থাকবে।

শেষ পর্যন্ত ব্রিকসের সাফল্য নির্ভর করবে তারা কতটা বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে পারে তার ওপর। যদি সদস্যদেশগুলো নিজেদের মতপার্থক্য সামলে আর্থিক সহযোগিতা, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের মতো বিষয়ে অগ্রগতি দেখাতে পারে, তাহলে সম্মেলনটি জোটটির ভবিষ্যৎ প্রভাব বাড়ানোর একটি ধাপ হতে পারে। আর যদি অভ্যন্তরীণ বিভাজনই সব আলোচনাকে আটকে দেয়, তাহলে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান আকারের বিপরীতে তার রাজনৈতিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

নয়াদিল্লির জন্য তাই এবারের সম্মেলনের সাফল্যের মাপকাঠি শুধু কে কী বললেন তা নয়। বরং ভারত কতটা দক্ষতার সঙ্গে পুতিন, শি চিনপিং, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, ইরান, উপসাগরীয় দেশ এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের বিভিন্ন স্বার্থকে একই কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সামলাতে পারে, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় ব্রিকসের টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র না থাকলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়া যে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকবে, তা প্রায় নিশ্চিত।

এই শাখার আরও খবর

সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ৪ সুইসাইড নোটে কী লিখেছেন পুলক চ্যাটার্জি

বরিশালে ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশনের (এনডিবিএ) সভাপতি ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান, সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে…

টাঙ্গাইলে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, শিক্ষক-পরিচালক গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি…

নতুন পরিচয়ে হানিয়া আমির, গানে থাকছে বড় চমক

অভিনয়ের পর এবার গানের জগতে অভিষেক হলো পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের। গত বুধবার প্রকাশ পেয়েছে তাঁর প্রথম গান ‘পাবলো’। প্রায় এক দশকের অভিনয়জীবন পেরিয়ে…

সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বরিশালে দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল শহরের সমকাল ব্যুরো…

নওগাঁয় ঘর থেকে নারী ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁর মহাদেবপুরে মোছা. আলতা বেগম (৫২) নামে এক নারী ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার খোর্দ কালনা উত্তরপাড়া গ্রাম…

চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনের চেষ্টা, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরে এক লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au