কার্ড প্রদর্শনরত প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের পকেটে টান, ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়—তবু উন্নয়নের প্রচারে কোনো ঘাটতি নেই! কার্টুন ছবি: ওটিএন বাংলা
তিন পর্বের ধারাবাহিক আয়োজনের প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো। শিগগিরই প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় পর্ব। সঙ্গে থাকুন ওটিএন বাংলার সঙ্গে।
ভার্জিনিয়া, ইউএসএ: তারেক রহমানের সরকার কেমন কাটালো তাদের ছয় মাসের “হানিমুন” পিরিয়ড? এ নিয়ে লেখার পরিকল্পনা ছিলো বেশ আগে; সময়ের অভাবে কাজটি গুছিয়ে উঠতে পারছিলামনা। তো এর মধ্যেই দিন-দুয়েক আগে দেখলাম, কার্ডে বাজার, বিজ্ঞাপনে স্বর্গ: তারেক সরকারের ছয় মাসের উন্নয়নের চিত্র নিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় একজন বৃদ্ধা নারী হাজির হয়েছেন। তাঁর হাতে বর্তমান সরকারের দেওয়া কার্ড, সামনে বাজারের থলে। তিনি বেশ বিরক্ত; যারা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের ধমক দিয়ে জানাচ্ছেন, এই কার্ড দিয়েই তিনি বাজার সদাই করছেন। তাঁর কণ্ঠে এমন দৃঢ়তা, যেন দেশের মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, গ্যাসের ঘাটতি, লোডশেডিং, ব্যাংক লুট, ধর্ষণ, হত্যা, নিখোঁজ শিশু এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের সব প্রশ্নের উত্তর সেই একটি কার্ডের মধ্যেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃদ্ধার ধমক শুনে মনে হলো, নাগরিকের কাজ বুঝি সরকারকে প্রশ্ন করা নয়, বিজ্ঞাপন দেখে কৃতজ্ঞ হওয়া। বাজারে চাল, ডাল, তেল ও সবজির দাম কত, সেটি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। কার্ড হাতে পাওয়া গেছে, অতএব রাষ্ট্র সফল। চুলায় গ্যাস না থাকলে কার্ডটি দেখুন, বিদ্যুৎ চলে গেলে সেটি পাখার মতো নাড়ুন, সন্তান নিখোঁজ হলে কার্ডটি বুকে চেপে সান্ত্বনা নিন। রাষ্ট্র যখন বাস্তবতার উত্তর দিতে পারে না, তখন বিজ্ঞাপনের একজন বৃদ্ধাকে দিয়ে সমালোচকদের ধমক দেওয়ানো যায়।
এই বিজ্ঞাপনটি বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসের সম্ভবত সবচেয়ে নিখুঁত রূপক। সুবিধা সীমিত, প্রচার সীমাহীন। খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারেক রহমান বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারপ্রধানের আসনে বসেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা। ছয় মাস পর বক্তৃতা কিংবা বিজ্ঞাপন নয়, সংখ্যার কাছে জানতে চাওয়া যাক, সরকার আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে।
পরিসংখ্যান পাঠের একটি জরুরি সতর্কতা
এই সংখ্যাগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সময়গত সতর্কতা দরকার। তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন, কিন্তু নারী, শিশু ও মানবাধিকারসংক্রান্ত অধিকাংশ তথ্য জানুয়ারি থেকে জুলাই হিসেবে প্রকাশিত। ফলে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনের ঘটনাও বর্তমান সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত। তাই এগুলোকে শুধু তারেক সরকারের সৃষ্ট ঘটনা না বলে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসের পরিস্থিতি, যার অধিকাংশ বর্তমান সরকারের সময়, এভাবে বর্ণনা করাই সঠিক।
|
সূচক
|
আওয়ামী লীগ আমলের তুলনীয় অবস্থা |
বর্তমান পরিস্থিতি |
সংখ্যার বার্তা
|
| GDP প্রবৃদ্ধি |
২০১৮ থেকে ২০১৯ সালে প্রায় ৭.৯ শতাংশ, FY23 এ ৫.৭৮ শতাংশ, FY24 এ ৪.২২ শতাংশ |
FY26 এ প্রায় ৩.৫ থেকে ৩.৯ শতাংশ |
প্রবৃদ্ধি আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সময়ের অর্ধেকের কাছাকাছি |
| মূল্যস্ফীতি |
দীর্ঘ সময় প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ, জুন ২০২৪ এ ৯.৭২ শতাংশ, জুলাইয়ে ১১.৬৬ শতাংশ |
ফেব্রুয়ারিতে ৯.১৩ শতাংশ, আগস্টে ৮.২৬ শতাংশ |
মূল্যস্ফীতির গতি কমেছে, কিন্তু দাম কমেনি |
| ভোক্তা মূল্যসূচক |
ভিত্তিবছর ২০২১ থেকে ২০২২ সমান ১০০ |
আগস্ট ২০২৬ এ প্রায় ১৫১.৬৪ |
১০০ টাকার পণ্য ও সেবার ঝুড়ির গড় মূল্য এখন প্রায় ১৫২ টাকা |
| খেলাপি ঋণ |
জুন ২০২৪ এ ঘোষিত হার প্রায় ১২.৬ শতাংশ, যদিও গোপন ও পুনঃতফসিল করা ঋণের অভিযোগ ছিল |
জুন ২০২৬ এ প্রায় ৬.০৭ লাখ কোটি টাকা, মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ |
প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি |
| গ্যাস |
২০২৪ সালে LNG সহ সরবরাহ প্রায় ২,৮০০ থেকে ৩,১০০ mmcfd পর্যন্ত ওঠানামা করত |
চাহিদা ৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ mmcfd, সরবরাহ প্রায় ২,৬০০ mmcfd |
দৈনিক ঘাটতি প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৪০০ mmcfd |
| বিদ্যুৎ |
উৎপাদনক্ষমতা ২০০৯ সালের প্রায় ৫,০০০ MW থেকে ২৫,০০০ MW এর বেশি হয়েছিল |
কোনো কোনো সময় ঘাটতি ৩,০০০ MW এর বেশি, বহু স্থানে দীর্ঘ লোডশেডিং |
অবকাঠামো আছে, কিন্তু জ্বালানি ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা |
| আইনশৃঙ্খলা |
গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক দমন এবং জুলাই ২০২৪ এর রক্তপাত ছিল গুরুতর কলঙ্ক |
ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ে ৯৯,৯৯২টি মামলা, আগের তুলনীয় সময়ের চেয়ে ৮.৪ শতাংশ বেশি |
ক্ষমতা বদলালেও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি |
| নারী ধর্ষণ |
২০২৪ সালের পুরো বছরে ৪০১টি ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ নথিভুক্ত |
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়েই ৪০০ জন ধর্ষণের শিকার, ধর্ষণের পর ৩৭ জন নিহত |
সাত মাসে আগের পুরো বছরের প্রায় সমান |
| শিশু ধর্ষণ ও হত্যা |
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ে ১৭৫ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার |
২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষিত, ধর্ষণের চেষ্টা ৪৬, ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার পর ১৭ শিশু নিহত |
শিশু সুরক্ষাব্যবস্থার গভীর ব্যর্থতা |
| শিশু নিখোঁজ |
২০২৩ সালে ১৭,৮০৮, ২০২৪ সালে ১৬,৪১৪টি নিখোঁজসংক্রান্ত জিডি |
২০২৬ সালের সাত মাসে ১৫,৭১৭ শিশু নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট, এখনও সন্ধান নেই ২,০৩৮ জনের |
সাত মাসেই ২০২৪ সালের পুরো বছরের প্রায় ৯৬ শতাংশ |
| সংখ্যালঘু নির্যাতন |
জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৪ পর্যন্ত ঐক্য পরিষদের দাবি, ১,০৪৫টি ঘটনা ও ৪৫ মৃত্যু |
২০২৬ এর প্রথম ছয় মাসে দাবি করা হয়েছে ২৫৭টি ঘটনা ও ৪৪ মৃত্যু |
ছয় মাসের মৃত্যুসংখ্যা আগের বারো মাসের প্রায় সমান |
| বয়স্কভাতা |
২০২৩ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে ৫৮.০১ লাখ সুবিধাভোগী |
কর্মসূচিটি নতুন সামাজিক নিবন্ধনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হচ্ছে |
সামাজিক সুরক্ষার বৃহৎ কাঠামো আগে থেকেই ছিল |
| বিধবা ও দুস্থ নারী ভাতা |
২৫.৭৫ লাখ নারী, পরবর্তী বাজেটে লক্ষ্য ২৭.৭৫ লাখ |
ফ্যামিলি কার্ডের প্রথম পর্যায়ে ৩৭,৫৬৭ নারী |
পুরোনো একটি কর্মসূচির আওতাই প্রথম পর্যায়ের কার্ডের তুলনায় বহুগুণ বেশি |
| প্রতিবন্ধী ভাতা |
২৯ লাখ সুবিধাভোগী, পরবর্তী লক্ষ্য ৩২.৩৪ লাখ |
নতুন কার্ডভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থার ঘোষণা |
কার্ডের নাম নতুন হলেও সামাজিক সহায়তার ধারণা নতুন নয় |
| মা ও শিশু সহায়তা |
প্রায় ১৩.০৪ লাখ মা, পরবর্তী লক্ষ্য প্রায় ১৬.৫৫ লাখ |
ফ্যামিলি কার্ডে মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি |
সহায়তার পরিমাণ বেশি, কিন্তু বাস্তব আওতা এখনও অত্যন্ত ছোট |
| খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি |
৫০ লাখ পরিবার, মাসে ৩০ কেজি চাল, কেজি ১৫ টাকা, বছরে পাঁচ মাস |
কার্ডের মাধ্যমে নগদ বা সমমূল্যের পণ্য দেওয়ার পরিকল্পনা |
পুরোনো খাদ্য কর্মসূচি প্রথম পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ডের প্রায় ১৩৩ গুণ বড় |
| কৃষি সহায়তা |
কৃষি উপকরণ কার্ড, ভর্তুকি ও কৃষকের ব্যাংক হিসাব ছিল, ১.০৯ কোটি কৃষককে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল |
প্রথম পর্যায়ে ২২,০৬৫ কৃষককে এককালীন ২,৫০০ টাকা |
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিশাল, বর্তমান বাস্তবায়ন ক্ষুদ্র |
| সরকারি চাকরি |
নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ অতীতেও ছিল |
১১ থেকে ২০ গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব |
ব্যক্তিনির্ভর মূল্যায়ন বাড়লে দলীয় নিয়োগের সুযোগও বাড়বে |
| আন্তর্জাতিক সম্পর্ক |
ভারত, চীন, জাপান, রাশিয়া ও পশ্চিমাদের সঙ্গে বড় উন্নয়ন প্রকল্প ছিল, শেষদিকে পশ্চিমাদের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয় |
বিশ্বব্যাংকের ১.১ বিলিয়ন ডলার জরুরি অর্থায়ন ইতিবাচক, ভারত সম্পর্ক ও প্রত্যর্পণ প্রশ্ন অমীমাংসিত |
বহুমুখী কূটনীতির ঘোষণা আছে, দৃশ্যমান কৌশলগত অর্জন সীমিত |
মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু বাজার কি তা জানে?
সরকার বলতে পারে, মূল্যস্ফীতি জুলাই ২০২৪ এর ১১.৬৬ শতাংশ থেকে আগস্ট ২০২৬ এ ৮.২৬ শতাংশে নেমেছে। এটি অবশ্যই কিছুটা ইতিবাচক। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ দাম কমা নয়। দাম এখনও বাড়ছে, শুধু আগের তুলনায় বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে।
ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিবছর ২০২১ থেকে ২০২২ ধরা হয়েছে ১০০। আগস্ট ২০২৬ এ সূচক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫১.৬৪। অর্থাৎ ভিত্তিবছরে যে প্রতিনিধিত্বশীল পণ্য ও সেবার ঝুড়ি কিনতে ১০০ টাকা লাগত, এখন সেটি কিনতে গড়ে প্রায় ১৫২ টাকা প্রয়োজন।
টেলিভিশনের বৃদ্ধা নিশ্চয়ই কার্ড নিয়ে বাজারে যান। কিন্তু বিজ্ঞাপনটি আমাদের জানায় না, তাঁর মাসিক ২,৫০০ টাকায় কত কেজি চাল, কত লিটার তেল, কতটুকু ডাল এবং কত দিনের ওষুধ কেনা যায়। বিজ্ঞাপনের বাজারে মূল্যস্ফীতি নেই, কারণ সেখানে মূল্যতালিকা দেখানো হয় না। বাস্তব বাজারে ক্যামেরার আলো নেই, আছে ক্রেতার দীর্ঘশ্বাস।
প্রবৃদ্ধির অবস্থাও স্বস্তিকর নয়। আওয়ামী লীগ আমলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একসময় প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরে দুর্নীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ, আমদানি ব্যয় এবং দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার কারণে FY24 এ তা ৪.২২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমান সময়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার শতাংশের মধ্যে। নতুন সরকার পুরোনো সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, কিন্তু এখনও অর্থনীতিকে সেই সংকট থেকে বের করে আনতে পারেনি।
ব্যাংকিং খাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। জুন ২০২৬ এ খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.০৭ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ। এই বিপুল খেলাপি ঋণের সবটাই বর্তমান সরকারের ছয় মাসে সৃষ্টি হয়নি। এর বড় অংশ বহু বছরের রাজনৈতিক প্রভাব, ভুয়া ঋণ, ঋণ পুনঃতফসিল, গোপন তথ্য এবং দুর্বল তদারকির উত্তরাধিকার। কিন্তু উত্তরাধিকারসূত্রে রোগ পাওয়া আর রোগ সারানোর কোনো লক্ষণ না দেখানো এক বিষয় নয়।
ছয় মাসের মূল্যায়নে একটি ভারসাম্য জরুরি। অর্থনৈতিক সংকটের বড় অংশ উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই সংকট মোকাবিলার দৃশ্যমান দিকনির্দেশ, সময়সীমা ও ফলও সরকারের জবাবদিহির অংশ। বিজ্ঞাপন কোনো নীতির বিকল্প নয়; শেষ পর্যন্ত বাজারের থলে, কর্মসংস্থান এবং ব্যাংকের হিসাবই সরকারের সাফল্য মাপে।
তিন পর্বের ধারাবাহিক আয়োজনের প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো। শিগগিরই প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় পর্ব। সঙ্গে থাকুন ওটিএন বাংলার সঙ্গে।