কারাগারেই মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করতে চান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্দি সনাতনী নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী কারাগারের ভেতরেই তার প্রয়াত মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ সম্পন্ন করতে চান। এ জন্য ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা পালনের…
প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশভিত্তিক একটি অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী ও মহাকাশভিত্তিক সম্পদ সুরক্ষায় এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। তবে অস্ত্রটির ধরন, সক্ষমতা এবং ঠিক কবে এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মেইনক সোমবার ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে মহাকাশে দ্রুত বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এই অস্ত্র কী ধরনের, এর আক্রমণ বা প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা কতটা এবং ঠিক কখন এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে, সেসব বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ট্রয় মেইনক।
এর আগে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের সামরিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে এসব দেশ মার্কিন সামরিক স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে বা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে। ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশপথ থেকে আসা অন্যান্য হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়াই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা এবং শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণকে দেশটির সামগ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত করা হচ্ছে।
১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই চুক্তির বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো বড় শক্তিগুলো মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সক্ষমতা ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছে।
এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং প্রয়োজনে স্যাটেলাইটকে অকার্যকর করার সক্ষমতাও রয়েছে। সামরিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা নজরদারি, দিকনির্ণয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে মহাকাশ এখন আধুনিক সামরিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের ভূমিকা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এতে শুধু মার্কিন মহাকাশ সম্পদ রক্ষা নয়, প্রয়োজন হলে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ গঠন করে। সাত দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি দেশটির সামরিক বাহিনীর নতুনতম শাখা। মহাকাশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ রক্ষা করা এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এর আওতায় যোগাযোগ ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত শত শত স্যাটেলাইটও রয়েছে।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অর্থ হলো প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে তা ব্যাহত, দুর্বল বা ধ্বংস করার ব্যবস্থা নেওয়া।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা যুদ্ধের সময় প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক, দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে।
মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের অন্যতম কারণ রাশিয়া ও চীনের কর্মকাণ্ড। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে দুটি রুশ স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত ১২টি স্যাটেলাইটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নজরদারি চালিয়ে থাকতে পারে।
এ ধরনের নজরদারির মাধ্যমে গোপন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কোনো স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করা সম্ভব হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র আরও দাবি করেছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে, যা অন্য স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে তারা মনে করে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, চীনও সামরিক শক্তি আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ এবং মহাকাশবিরোধী সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফলে মহাকাশে অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের প্রধান সামরিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন ধরনের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au