স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম ৩০ ডলারের কাছাকাছি
বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির স্পট মার্কেটের দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ৩০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে যে দামে…
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা এখন দেশের ভবিষ্যৎ দক্ষ মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। পরীক্ষায় নকল, দুর্বল শিখনফল, মুখস্থনির্ভর পাঠ্যক্রম, কারিগরি শিক্ষার সীমাবদ্ধতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রভাব এবং শিক্ষা খাতে তুলনামূলক কম বরাদ্দ, সব মিলিয়ে একটি বড় কাঠামোগত সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখায় বলা হয়েছে, এসব সমস্যা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। বরং শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, নৈতিকতা, স্বাধীন চিন্তা ও বাস্তব সক্ষমতা গড়ে তুলতে দীর্ঘদিনের ঘাটতির বিভিন্ন প্রকাশ এসব সমস্যা।
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে শিশুদের বিদ্যালয়ে আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা অনেক শিশু এখন শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবধান কমেছে এবং মানুষের শিক্ষাজীবনের সময়ও বেড়েছে।
তবে লেখাটিতে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং প্রকৃত শিক্ষা অর্জন এক বিষয় নয়। একজন শিক্ষার্থী কত বছর বিদ্যালয়ে পড়েছে, তার পাশাপাশি সে কী শিখেছে এবং অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কতটা কাজে লাগাতে পারছে, সেটিই শিক্ষার মূল মানদণ্ড হওয়া উচিত।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের একটি হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা শিশুদের ৫১ শতাংশ বয়স উপযোগী লেখা পড়ে তার অর্থ বুঝতে পারে না। ফলে এখন শুধু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, তারা যেন কার্যকরভাবে শিখতে পারে, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরীক্ষায় নকল বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের আলোচিত সমস্যা। নকল ঠেকাতে সিসিটিভি ক্যামেরা, কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও শাস্তির ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো একা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে না বলে মনে করেন লেখক।
দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষায় নকলকে গুরুতর নৈতিক অপরাধের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ অনিয়ম হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। লেখায় মার্কিন মনোবিজ্ঞানী অ্যাডাম গ্র্যান্টের মতামতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, নকল প্রতিরোধের দীর্ঘমেয়াদি উপায় হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি করা, যেখানে অসততাকে নিজের পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হবে।
অর্থাৎ নজরদারি থাকলে নকল করবে না, এমন মানসিকতার পরিবর্তে কেউ দেখছে না এমন পরিস্থিতিতেও সৎ থাকার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত এই নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা।
বাংলাদেশের পাঠ্যক্রমের পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা ও মুখস্থনির্ভরতার বিষয়টিও লেখায় গুরুত্ব পেয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তা, যুক্তি বিশ্লেষণ এবং নতুন সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যথেষ্ট বিকশিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষ করে ইতিহাস শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা মুখস্থ করানোর পরিবর্তে প্রমাণ যাচাই, বিভিন্ন মতামত বোঝা এবং তথ্য ও প্রচারের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাস্তব দক্ষতার ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। কোনো যন্ত্রের বর্ণনা মুখস্থ করলেই একজন শিক্ষার্থী দক্ষ কর্মী হয়ে ওঠেন না। তাকে যন্ত্র পরিচালনা, মেরামত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তব কর্মক্ষেত্রে তা ব্যবহার করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়ানো, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, ইন্টার্নশিপ এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণকে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী আসলে কী করতে পারবেন, সেটিই পাঠ্যক্রমের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন হওয়া উচিত। সমালোচনামূলকভাবে পড়া, স্পষ্টভাবে লেখা, সংখ্যাগত দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, দলগতভাবে কাজ করা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নিয়েও লেখাটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, কোনো সরকার যদি এমন ব্যবস্থা চালু করে এবং পরবর্তী সরকারও একই পদ্ধতিতে নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসায়, তাহলে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব হয় না।
লেখায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছিল, তা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে একই ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব অব্যাহত থাকলে শুধু সুবিধাভোগী পক্ষ পরিবর্তিত হয়, ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ঘটে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে স্বচ্ছ নিয়োগ, মেধা, সততা, বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের মেধা ও দক্ষতাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নীতিকে বাংলাদেশের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রসঙ্গও এসেছে। লেখায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে একটি দলের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে বিবেচিত কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে সমালোচনা রয়েছে।
তবে লেখকের মতে, একাডেমিক স্বাধীনতার অর্থ জবাবদিহির বাইরে থাকা নয়। কোনো শিক্ষক প্রমাণিত অনিয়ম করলে তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়, অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা অজনপ্রিয় মতামতকে শাস্তির একমাত্র ভিত্তি না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ নিয়েও লেখাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের পরামর্শ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিয়মিত যোগাযোগের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী নয় বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি থাকলেই তিনি ভালো শিক্ষক হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। কীভাবে কোর্স তৈরি করতে হয়, কঠিন বিষয় সহজভাবে বোঝাতে হয় এবং শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হয়, এসব বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
গবেষণার ক্ষেত্রেও শুধু প্রকাশনার সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে গবেষণার মান, মৌলিকত্ব এবং দেশের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানসম্মত ও কার্যকর গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব টেকনোলজি বা আইআইটি-এর উদাহরণ দিয়ে লেখায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে গড়ে তোলার পরিবর্তে কিছু শক্তিশালী গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত স্নাতক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে অর্থের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে। লেখায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারি শিক্ষা ব্যয় বহু বছর ধরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২ শতাংশ বা তার কম রয়েছে। এটি ইউনেসকোর এডুকেশন ২০৩০ কাঠামোয় উল্লেখিত ৪ থেকে ৬ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম।
তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই শিক্ষার সব সমস্যা সমাধান হবে না। দুর্বল প্রশাসন, নিম্নমানের শিক্ষকতা ও ত্রুটিপূর্ণ পাঠ্যক্রম ঠিক না করে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। আবার পর্যাপ্ত অর্থ ছাড়া দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক গবেষণাগার ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলাও কঠিন। তাই শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও শিক্ষাব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় ভিত্তি ছিল কম দক্ষ শ্রমশক্তি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি, প্রকৌশল, ওষুধ, জীবপ্রযুক্তি এবং উচ্চমূল্যের উৎপাদন খাত সম্প্রসারণ করতে হলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপক ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক প্রয়োজন হবে।
শুধু কর ছাড় বা দ্রুত বিনিয়োগ অনুমোদনের মাধ্যমে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশে আনা সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী তৈরি করা যায় না। বিনিয়োগ আসার আগেই সেই দক্ষ মানবসম্পদ প্রস্তুত করতে হয়। তাই শিক্ষা নীতিকে দেশের শিল্পনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
জনসংখ্যাগত পরিবর্তনও বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ জনসংখ্যাবিদ নিকোলাস এবারস্টাড্টের লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হতে পারে।
বর্তমানের তরুণ জনগোষ্ঠীই ভবিষ্যতে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় অংশ হবে। কিন্তু তাদের পর্যাপ্ত দক্ষতা তৈরি না হলে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
লেখায় উদ্ধৃত দক্ষতার পরিমাপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ছয়জন তরুণের মধ্যে পাঁচজন আধুনিক অর্থনীতিতে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম দক্ষতার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করে লেখাটিতে বলা হয়েছে, একই ধরনের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সময় দেশটিতে দক্ষতার ঘাটতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
এদিকে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের কারণে কম দক্ষ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমছে। অন্যদিকে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়বে। ফলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে দুর্বল শিক্ষা পাওয়া একটি শিশু ২০৫০ সালে তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে থাকবে। আজকের দুর্বল প্রাথমিক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতিতে পড়তে পারে। আজকের মুখস্থনির্ভর কারিগরি শিক্ষার্থী আগামী দিনের উৎপাদনশীলতার সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। একইভাবে আজকের রাজনৈতিক প্রভাবিত বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতের গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে।
একটি কারখানা কয়েক বছরের মধ্যে নির্মাণ করা সম্ভব এবং বিনিয়োগের নিয়ম কয়েক মাসের মধ্যে পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে একটি প্রজন্মের প্রয়োজন হয়। তাই শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাতে সময় খুব বেশি নেই।
লেখকের মতে, পরীক্ষায় নকল বন্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই শিক্ষাব্যবস্থার পুরো সংকট নয়। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীদের সততা, বাস্তব দক্ষতা, স্বাধীন চিন্তা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এবং নতুন সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা গড়ে উঠবে।
কারণ ২০৫০ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাপ মোকাবিলার ক্ষমতা অনেকটাই নির্ভর করবে আজকের শিক্ষার্থীরা কী ধরনের শিক্ষা পাচ্ছে তার ওপর। সেই অর্থে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের শিক্ষা সংকট আগামী দিনের কোনো বিষয় নয়, এর ভিত্তি তৈরি হচ্ছে এখনই।
সুত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au