অফ-সিজনে মাউন্ট ফুজিতে উদ্ধার অভিযানে ফি নেবে জাপান।
জাপানের বিখ্যাত মাউন্ট ফুজিতে পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমের বাইরে ওঠার সময় কেউ বিপদে পড়লে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করতে হলে তার কাছ থেকে খরচ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আগামী বছর থেকে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে ফুজির উত্তর অংশের দায়িত্বে থাকা ইয়ামানাশি প্রিফেকচার।
অফ-সিজনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই মাউন্ট ফুজিতে ওঠার প্রবণতা কমানো এবং পর্বতারোহীদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতেই নতুন এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি উদ্ধার অভিযানের সংখ্যাও কমাতে চায় কর্তৃপক্ষ।
মাউন্ট ফুজিতে ওঠার সরকারি মৌসুম সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত। এই সময়ের বাইরে পর্বতটিতে ওঠাকে কর্তৃপক্ষ জোরালোভাবে নিরুৎসাহিত করে। তবে নির্ধারিত ১০টি পথের মধ্যে পঞ্চম পথ পর্যন্ত ওঠার অনুমতি রয়েছে। এরপরও অফ-সিজনে মাউন্ট ফুজিতে ওঠার ঘটনা বাড়ছে বলে জানিয়েছে ইয়ামানাশি ও পাশের শিজুওকা প্রিফেকচারের কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা জানান, অনেক পর্বতারোহী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই অফ-সিজনে ফুজিতে ওঠেন। এতে প্রতিকূল আবহাওয়া ও কঠিন পরিবেশের কারণে অনেকে পাহাড়ে আটকে পড়েন। তাদের উদ্ধারে তখন জরুরি উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়, যার জন্য বিপুল অর্থ ও জনবল ব্যয় হয়।
এই পরিস্থিতিতে ইয়ামানাশি প্রিফেকচার অফ-সিজনে মাউন্ট ফুজিতে ওঠার আগে পর্বতারোহীদের বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে পরবর্তী বছরের জুলাই পর্যন্ত সময়কে অফ-সিজন হিসেবে ধরা হবে।
হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযানের জন্য ঠিক কত টাকা নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করেনি ইয়ামানাশি কর্তৃপক্ষ। তবে পাশের সাইতামা প্রিফেকচারের একটি পাহাড়ি এলাকায় চালু থাকা উদ্ধার ফি থেকে ধারণা নেওয়া হবে। সেখানে হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রতি পাঁচ মিনিটে ৮ হাজার ইয়েন নেওয়া হয়। এই অর্থ প্রায় ৫১ মার্কিন ডলারের সমান।
ইয়ামানাশির গভর্নর কোতারো নাগাসাকি সোমবার বলেন, পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমের বাইরে সাধারণ মানুষকে মাউন্ট ফুজিতে ওঠা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থাগুলো শীতকালে ফুজিতে ওঠার ঝুঁকি এবং সেখানকার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে পর্বতারোহীদের নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে বলেও জানান তিনি।
অফ-সিজনে মাউন্ট ফুজির আবহাওয়া অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে। পাহাড়ের পথও তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। এ ছাড়া এ সময় পর্বতের বেশির ভাগ থাকার জায়গা ও শৌচাগার বন্ধ থাকে। ফলে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে পর্বতারোহীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও সীমিত হয়ে যায়।
শুধু ইয়ামানাশি নয়, পাশের শিজুওকা প্রিফেকচারও অফ-সিজনে মাউন্ট ফুজিতে ওঠা নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা নিচ্ছে। শিজুওকা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা এই সময়ে ফুজিতে ওঠার পরিকল্পনা নিবন্ধন করবেন না, তাদের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ এলাকায় কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য নজরদারিও বাড়ানো হবে।
তবে শিজুওকা প্রিফেকচার জানিয়েছে, অফ-সিজনে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করতে হলে পর্বতারোহীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সুত্রঃ বিবিসি