ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ব্যক্তিদের আটক করবে অস্ট্রেলিয়া, তবে…
অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থানরত প্রায় ৭৭ হাজার মানুষকে দেশে ফেরাতে সীমান্ত বাহিনীর ১০০ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হচ্ছে। তবে…
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় ধরনের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী সংকটে পড়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নাম, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের বিরোধের মধ্যে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ বা ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা অন্তর্বর্তী আদেশে কমিশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর কোনওটিই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও পৃথক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
কমিশন বলেছে, চূড়ান্তভাবে কোন পক্ষ দলের নাম ও প্রতীকের অধিকারী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উভয় গোষ্ঠীকে ‘সমান অবস্থানে’ রাখতেই এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই পক্ষকে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে নিজেদের গোষ্ঠীর জন্য পছন্দের ক্রমানুসারে তিনটি করে সম্ভাব্য নাম জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য কমিশনের বিজ্ঞাপিত ‘মুক্ত প্রতীক’-এর তালিকা থেকে পছন্দের ক্রমানুসারে তিনটি করে প্রতীকও জানাতে হবে।
এরপর কমিশন প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য একটি করে নাম অনুমোদন এবং একটি করে পৃথক মুক্ত প্রতীক বরাদ্দ করবে। অর্থাৎ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই শিবিরই তৃণমূলের মূল নাম ও প্রতীকের বাইরে পৃথক পরিচয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেবে।
কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, দুই গোষ্ঠী চাইলে তাদের নতুন নামের সঙ্গে মূল দল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখ করতে পারবে। তবে কোনও পক্ষই মূল দলের সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধটি নির্বাচন কমিশনে গড়ায় দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের পর। একদিকে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরও নিজেদের দলটির প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী পক্ষ হিসেবে দাবি করে আসছে।
দুই পক্ষই দলের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক সম্পদের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করেছে। নির্বাচন কমিশন গত ৬ জুলাই থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করে এবং দুই পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন নথি ও তথ্য চেয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর কমিশন দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের আলাদাভাবে শুনানি করে। এরপর আরও নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়। একই সময়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনও ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের সঙ্গে আবার শুনানি করে কমিশন। সেই শুনানির পরই মূল দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
এই সিদ্ধান্তের আগে দুই পক্ষই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহার করে প্রার্থী দিয়েছিল। ফলে মনোনয়ন যাচাইয়ের প্রক্রিয়াতেও জটিলতা তৈরি হয়।
ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার (ইউএনআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নন্দীগ্রামে দুই পক্ষের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাইয়ের বিষয়টি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। মমতা শিবিরের সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত শিবিরের মোহাম্মদ এহতেশামুল হক, উভয় পক্ষই তৃণমূলের প্রতীক দাবি করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর এখন তাদের নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগোতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী আদেশ কার্যকর থাকায় কোনও পক্ষই ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রচারে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও সংরক্ষিত ‘জোড়া ফুল’ প্রতীককে নিজেদের নির্বাচনী পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।
কমিশনের সিদ্ধান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে কমিশনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন।
কমিশন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেবে, এমন প্রত্যাশা ছিল তাঁদের মধ্যে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্য নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত আসায় মমতা শিবিরের অবস্থান বদলে যায়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের আদেশকে বেআইনি বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁরা এই আদেশ মেনে নিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার আগে বিষয়টি কীভাবে এগোয় তা পরিষ্কার হবে।
তবে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান আদেশ অনুযায়ী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষের জন্যই পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহারের ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
ভারতের নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত বিধিতে কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দল ভেঙে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী তৈরি হলে এবং প্রত্যেক গোষ্ঠী মূল দল ও তার প্রতীকের দাবি করলে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারে।
এ ধরনের ক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো, দলীয় সদস্যপদ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন, দলীয় নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করে। কমিশন প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও শুনতে পারে।
তৃণমূলের বর্তমান বিরোধের ক্ষেত্রেও কমিশন এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি Election Symbols (Reservation & Allotment) Order, 1968-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ১৭ সেপ্টেম্বরের অন্তর্বর্তী আদেশ কার্যকর থাকবে।
অর্থাৎ, বর্তমান সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এটি মূল বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা।
নির্বাচন কমিশন এখনও ঘোষণা করেনি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে কোন পক্ষ ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারের অধিকার পাবে।
ফলে ১৭ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো দুই পক্ষের জন্য একই নাম ও প্রতীক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণ নয়। কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে দলের সাংগঠনিক পরিচয় ও সংরক্ষিত প্রতীকের ভবিষ্যৎ।
এদিকে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মনোনয়ন পর্ব ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ফলে নতুন নাম ও প্রতীক নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে।
‘ফুল ও ঘাস’ বা ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকটি তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নথিতেও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সংরক্ষিত প্রতীক হিসেবে ‘Flowers & Grass’ উল্লেখ রয়েছে।
ফলে উপনির্বাচনের ঠিক আগে এই প্রতীক ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী পরিবর্তন তৈরি করেছে। এতদিন যে প্রতীক দেখে ভোটাররা তৃণমূলকে চিহ্নিত করতেন, আসন্ন উপনির্বাচনে সেই প্রতীক কোনও পক্ষের ব্যালটে থাকবে না, যদি না পরবর্তী কোনও সিদ্ধান্তে কমিশন বর্তমান নির্দেশ পরিবর্তন করে।
নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আইনি লড়াইও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ দলের নাম, সংগঠন এবং প্রতীকের অধিকার পাবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
কমিশনের ১৭ সেপ্টেম্বরের আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। মূল বিরোধের বিষয়ে কমিশনের ‘substantive determination’ বা যথাযথ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।
ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের হাতে থাকবে। তার আগে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে দুই পক্ষকে সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নামতে হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au