শেষ মুহূর্তে স্থগিত শেখ হাসিনার দিল্লি বৈঠক, নতুন পরিকল্পনা কী?
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে।…
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না, এমন বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সই করা এক অফিস আদেশে তাঁকে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আদেশটি বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ডিএমপির অফিস আদেশে রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে তাঁর কণ্ঠ রয়েছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. আক্তার হোসেনও রাকিবুলকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার রাতে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং থানার ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়।
অডিওতে ওই ব্যক্তিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে বলতে শোনা যায়, তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কিছু করা সম্ভব হবে না। কথোপকথনে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে ‘দুর্বল’ বলেও মন্তব্য করা হয়। এমনকি ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চলতি মাসেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা উচিত বলেও ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়।
অডিওর আরেক অংশে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়। সেখানে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার’দের অনেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, কিন্তু মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা সে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করতে শোনা যায় তাঁকে।
অডিওতে পুলিশের অভ্যন্তরে পদায়ন ও বদলি নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়। ‘মনির’ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে থানার ওসি পদায়ন করা হচ্ছে এবং পদায়ন পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা টাকা দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। তবে অডিওতে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কথোপকথনের একপর্যায়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। অডিওতে দাবি করা হয়, ওই কর্মকর্তা কোনো একটি পদে এক বছর থাকতে পারলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এসব বক্তব্যও অডিওতে থাকা ব্যক্তির দাবি হিসেবে এসেছে, যার স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
ওসি পদায়ন নিয়ে অডিওতে আরও বলা হয়, ঢাকায় থানার ওসি হতে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। সেখানে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদের সময়ের পদায়ন নিয়েও মন্তব্য করা হয়। তবে অডিওতে করা এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
অডিওর আরেক অংশে বক্তাকে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলতে শোনা যায়। তিনি দাবি করেন, ভাটারা এলাকায় একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য একটি কাজ করে দিয়েছিলেন এবং পরে ওই কর্মকর্তা এক কোটি টাকা নিয়েছেন বলে জানতে পারেন। এরপর পুলিশের মধ্যে যোগ্য কর্মকর্তাদের পিছিয়ে রাখা এবং অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়নের অভিযোগও করেন তিনি।
তবে অডিওটির সত্যতা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন ওসি মো. রাকিবুল হাসান। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাকিবুল তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে অডিওতে কণ্ঠটি তাঁরই কি না এবং কথোপকথনটি আসল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের একাধিক সূত্র অডিওর কণ্ঠটি রাকিবুল হাসানের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক ফরেনসিক যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অডিওতে থাকা বক্তব্যগুলোকে আপাতত যাচাই না হওয়া বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, অডিও ক্লিপটির বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবারের আদেশে তাঁকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে সরিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির আদেশে এ সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, পুলিশের সক্ষমতা, পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং থানার ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন নিয়ে অডিওতে করা মন্তব্যগুলোকে ঘিরে আলোচনা হয়।
তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময়, পুলিশের ভূমিকা কিংবা অডিওতে উত্থাপিত পদায়ন ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাইয়ের ফলাফল পাওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো, অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au