ডিসেম্বরের আগে সরকারকে অচল করতে চায় আ.লীগ, তারপর প্রত্যাবর্তন
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছেন। তার দেশে ফেরাকে সামনে রেখে দলটি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার…
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।
রোববার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন মূল্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, এখন প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়। কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৫ টাকা। পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হবে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানি তেলের প্রতিটির দামই আগের তুলনায় ২০ টাকা বেড়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। একই সময়ে জ্বালানি তেলের অন্যান্য মূল্যও পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সরকারি গেজেটেও ওই সময় ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণের তথ্য রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলেও গত প্রায় পাঁচ মাস দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সরকার ভোক্তা পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমন্বয় করেনি।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল পরিবহনের ফ্রেইট চার্জও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় সরকার দীর্ঘ সময় দেশে মূল্যবৃদ্ধি করেনি। এর ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসিকে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান বহন করতে হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রির কারণে এই আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খাতসহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় সড়ক পরিবহন, পণ্য পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে। কারণ দেশের গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের একটি বড় অংশ ডিজেলনির্ভর।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে বাজারদরেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন দামের পর বিভিন্ন খাতে ঠিক কী পরিমাণ ব্যয় বাড়বে, তা সংশ্লিষ্ট খাতের সমন্বয় ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
সরকারের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের মূল্য কাঠামোর বড় ব্যবধান থাকলে পাচারের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের দামের ব্যবধান কমানো, বিপিসির লোকসান নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর বিষয়টিও মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত বলে সরকারি ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি লিটার অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা এবং ডিজেল ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হবে।
এর আগে ১৮ এপ্রিলের মূল্য সমন্বয়ের পর কয়েক মাস দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল ছিল। সেই সময়ের পর আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ অব্যাহত থাকলেও সরকার দীর্ঘ সময় তা ভোক্তা পর্যায়ে সমন্বয় করেনি। এবার একসঙ্গে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
ফলে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় জ্বালানি ব্যয়ের নতুন চাপ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে এর পরোক্ষ প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au