ডিসেম্বরের আগে সরকারকে অচল করতে চায় আ.লীগ, তারপর প্রত্যাবর্তন
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছেন। তার দেশে ফেরাকে সামনে রেখে দলটি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার…
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে চালানো এই হামলায় মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় এক হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয় এবং মস্কোমুখী ৪৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্তরে ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০টি মস্কোর দিকে যাচ্ছিল। তিনি ঘটনাটিকে রাজধানীর ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার রাত পর্যন্ত রাশিয়া, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগরের ওপর মোট ১ হাজার ১১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হামলায় মোট কতটি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সংখ্যা দেয়নি।
হামলার প্রভাবে মস্কো অঞ্চলে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে রুশ কর্মকর্তাদের সর্বশেষ তথ্য থেকে জানা গেছে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ প্রথমে দুইজনের মৃত্যুর কথা জানান। পরে আহতদের একজন হাসপাতালে মারা গেলে নিহতের সংখ্যা তিনজনে দাঁড়ায়। প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিন জানান, হামলায় মস্কো তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শোধনাগারটি রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকার জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার খবর পাওয়া গেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কো অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলার কারণে আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি ২১ তলা আবাসিক ভবনের ছাদে ড্রোন পড়ে আগুন ধরে যায়। ভবনটি থেকে প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
হামলার কারণে মস্কোর ভনুকোভো, দোমোদেদোভো, শেরেমেতিয়েভো ও ঝুকোভস্কি বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের শেষ দিনেই হামলা
রাশিয়ার তিন দিনব্যাপী সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিন ছিল রোববার। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মস্কোর ওপর বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা দাবি করছেন।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, হামলাটি নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ছিল। তাঁর দাবি, হামলার এই উদ্দেশ্য সফল হয়নি এবং ভোটগ্রহণ চলেছে।
তবে ইউক্রেন হামলার উদ্দেশ্য হিসেবে রুশ নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বরং হামলাকে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনে তৈরি ফ্লামিঙ্গো ও পেলিক্যান ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্য ছিল।
জেলেনস্কি বলেন, এসব স্থাপনা থেকে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থ আসে। তেল ও লজিস্টিক স্থাপনায় আঘাতের মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করাই কিয়েভের অন্যতম লক্ষ্য বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা বাড়াচ্ছে ইউক্রেন
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময়ে ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে। দেশটি রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলার জন্য নিজেদের তৈরি দীর্ঘপাল্লার ড্রোনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের হামলার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো। এসব স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও যুদ্ধ অর্থনীতিতে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে কিয়েভ। মস্কোর তেল শোধনাগার এর আগেও ইউক্রেনীয় হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
ইউক্রেনের কৌশলের আরেকটি দিক হলো রাশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছেও যুদ্ধের প্রভাব দৃশ্যমান করা। এতদিন ইউক্রেনের ভূখণ্ডে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ বেশি হলেও এখন রাশিয়ার রাজধানী ও অন্যান্য শহরেও নিয়মিত ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে।
ইউক্রেনেও রুশ হামলায় হতাহত
মস্কোয় ইউক্রেনের হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকাতেও রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার খেরসন অঞ্চলের একটি মঠে রুশ ড্রোন হামলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া শনিবার রাতে কিয়েভ অঞ্চলে রুশ হামলায় এক মা ও তাঁর দুই সন্তান নিহত হন। পরে একই হামলায় আহত আরেক শিশুও হাসপাতালে মারা যায় বলে কিয়েভ অঞ্চলের প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভ অঞ্চলে একাধিক স্থানে হামলা হয়েছে এবং বাড়িঘর, শিল্প ও ইউটিলিটি স্থাপনা, যানবাহনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি এখন দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের প্রায় ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্মুখসারিতে বড় ধরনের স্থল অগ্রগতি অনেক ক্ষেত্রে ধীর হয়ে পড়লেও দুই দেশই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালাচ্ছে।
ড্রোন ও স্থল রোবটের ব্যাপক ব্যবহার সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের চলাচলকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে যুদ্ধের একটি বড় অংশ এখন সরাসরি সম্মুখসমরের বাইরে গিয়ে জ্বালানি, সরবরাহ, সামরিক অবকাঠামো ও অন্যান্য দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দিকে চলে যাচ্ছে।
রোববারের মস্কো হামলা সেই প্রবণতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে। রাশিয়ার রাজধানী ও এর আশপাশে একযোগে বিপুলসংখ্যক ড্রোনের ব্যবহার, তেল শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতি এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা যুদ্ধের বিস্তৃতি ও তীব্রতার নতুন মাত্রা সামনে এনেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে এই হামলা হওয়ায় এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও সামনে এসেছে। মস্কো বলছে, নির্বাচনকে ব্যাহত করাই হামলার উদ্দেশ্য ছিল। ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করাই ছিল তাদের হামলার উদ্দেশ্য। ফলে হামলার সামরিক প্রভাবের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তাও এখন রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au