বাংলাদেশ

‘দেশে ফিরতে চাই, সরকার বাধা দিচ্ছে’:  শেখ হাসিনার অভিযোগ

  • 4:44 am - September 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৫৯ বার
শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে ফিরতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকার বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়েই দেশে ফেরার কথা আগেও জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দেন।

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলটির প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রকৃত অবস্থা ও জনগণের পরিস্থিতি জানতে এবং দলের সাংগঠনিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে তিনি পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের ৮৩টি জেলা শাখা ও ১৬০টি নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এসব মতবিনিময় থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এবং পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে।

শেখ হাসিনা দলটির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিভিন্ন নির্দেশনাও দেন। সাংগঠনিক শূন্যতা রয়েছে এমন এলাকায় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের প্রধান শক্তি জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এবং দলটি তাদের ওপরই নির্ভর করে।

গত প্রায় দুই বছরে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে যারা এসব নির্যাতন ও নিপীড়নের জন্য দায়ী, তাদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ডও প্রকাশ করার কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, অনেক নিরপরাধ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি তাদের মুক্তির দাবি জানান।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি নিয়েও বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছিলেন। এ সময় অনেক পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং বিভিন্ন থানায় হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার কথা বলেন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা দাবি করেন, দেশের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। তিনি নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও মামলা দেওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে সরকারের বিরুদ্ধে এসব ঘটনায় নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ করেন।

দেশের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নিজের দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশে ফিরতে আগ্রহী, অথচ সরকার বাধা সৃষ্টি করছে।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তাদের ওপর যতই নির্যাতন করা হোক কিংবা তাদের বিরুদ্ধে যত মৃত্যুদণ্ডের সাজাই দেওয়া হোক, তাদের জনগণের পাশে থাকতে হবে। জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যও তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে দেশের বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণ, তেল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনা ও দলের অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করেন এবং ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্তির দাবি জানান। দলটির বিবৃতিতে এসব রায়কে ‘অবৈধ’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ে একটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা ওই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। শুক্রবারের বৈঠকটি দলটির সরকার থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউএনবি।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, চাকরি হারানো শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং বন্ধ শিল্প ও কারখানা পুনরায় চালু করা।

এ ছাড়া সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের মুক্তির দাবিও জানানো হয়।

শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত করার দাবিও বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলটি জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেখ হাসিনার বক্তব্যেও সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই শাখার আরও খবর

ডিসেম্বরের আগে সরকারকে অচল করতে চায় আ.লীগ, তারপর প্রত্যাবর্তন

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছেন। তার দেশে ফেরাকে সামনে রেখে দলটি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার…

ঢাকায় পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ, নেপথ্যে ছিলেন ভারতীয় ইহুদি জেনারেল জ্যাকব

ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আবারও সামনে এসেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ…

রাশিয়ায় নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, বাদ যায়নি মস্কো জ্বালানি স্থাপনাও

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে চালানো এই হামলায় মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারসহ…

এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে…

পেট্রল ১৪০,  ডিজেল ১৩৫ ও অকটেন ১৬৫ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন…

প্রতিমা ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শুরু হলো ‘দুর্গাপূজার আমেজ’

দুর্গাপূজা আসছে। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ, সাজসজ্জার প্রস্তুতি, আলোকসজ্জা আর উৎসবের আয়োজন। ভক্তদের অপেক্ষা মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গার আগমনের। কিন্তু উৎসবের এই আবহে বাংলাদেশের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au