পাকিস্তানে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বোমা হামলা, নিহত ১১
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশের একটি তল্লাশি চৌকিতে বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)…
রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে কথিত গোপন বৈঠক এবং সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের অভিযোগে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পল্টন থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিল চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। একই সময়ে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকেও হাতবোমাসহ একজনকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধানমন্ডির ওই মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন পরে গুলিস্তানে জাসদের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। এর আগে থেকেই ওই কার্যালয়ে শতাধিকের বেশি লোক জড়ো হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী রয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে পুলিশ অভিযান চালায়।
বিষয়টি জানাজানি হলে জাসদ কার্যালয়ের আশপাশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও জড়ো হতে দেখা যায়। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং পল্টন থানা যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সেখানে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে পুলিশ কার্যালয়ের ভেতরে অভিযান পরিচালনা করে।
বিকেল ৪টার দিকে জাসদের প্রধান কার্যালয় থেকে একে একে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ বের করে নিয়ে যায়। এ সময় অনেকের হাতে হাতকড়া পরানো ছিল বলে ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে। পরে তাদের পল্টন থানায় নেওয়া হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, জাসদের প্রধান কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে বহিরাগত অনেক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। পাশাপাশি সেখানে বৈঠক চলছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য আসে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ক্রাইম ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সঙ্গে তাদের পরিচয় ও সেখানে অবস্থানের কারণ যাচাই করা হচ্ছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধানমন্ডিতে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ এবং পরে মিছিলের অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশের গুলিস্তানের জাসদ কার্যালয়ে অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পরই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কি না, তাদের মধ্যে কারা মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং জাসদ কার্যালয়ে কী ধরনের বৈঠক চলছিল, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
এদিকে জাসদ কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির উপস্থিতি এবং পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au