লাতিন আমেরিকার কালজয়ী লেখক পেরুর নোবেলজয়ী সাহিত্যিক মারিও বার্গাস ইয়োসা আর নেই। স্থানীয় সময় রোববার রাজধানী লিমায় ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের সোনালি যুগের প্রজন্মের অবসান হলো।
কালজয়ী এই লেখকের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে সোমবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে পেরু। এ সময় সরকারি ভবন ও স্থাপনায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
১৯৬০ ও ’৭০–এর দশকে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের বিস্ময়কর উত্থানের সময়কার কালজয়ী লেখকদের একজন ইয়োসা। ওই সময়ের কালজয়ী সাহিত্যিকদের মধ্যে রয়েছেন কলম্বিয়ার গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ও আর্জেন্টিনার হুলিও কোর্তাসার।
মারিও বার্গাস ইয়োসা তাঁর লেখায় সমাজ, রাজনীতি ও ব্যক্তিসত্তার গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও উপহার দিয়েছেন।

১৯৮২ সালে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের পর ইয়োসা আরেক লাতিন আমেরিকান সাহিত্যিক, যিনি নোবেল পুরস্কার পান।
ইয়োসার লেখা প্রথম উপন্যাস ‘দ্য টাইম অব দ্য হিরো’ ১৯৬০–এর দশকে আন্তর্জাতিকভাবে বেশ সাড়া ফেলেছিল। ১৯৮২ সালে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের পর ইয়োসা আরেক লাতিন আমেরিকান সাহিত্যিক, যিনি নোবেল পুরস্কার পান। এ ছাড়া তিনি স্প্যানিশভাষীর কাছে সবচেয়ে সম্মানজনক সারভানতেস পুরস্কার পান ১৯৯৫ সালে।

১৯৬০ ও ’৭০–এর দশকে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের বিস্ময়কর উত্থানের সময়কার কালজয়ী লেখকদের একজন ইয়োসা।
১৯৩৬ সালে দক্ষিণ পেরুর অ্যারিকুইপায় মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে মারিও বার্গাস ইয়োসার জন্ম। ২০১০ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত ইয়োসা লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন। স্প্যানিশ ভাষার এই ঔপন্যাসিক স্পেনেরও নাগরিক।
সাহিত্যজীবনের শুরুতে অনেক সহকর্মীর মতো ইয়োসাও ছিলেন সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। অবশ্য পরে ডানপন্থার দিকে ঝোঁকেন তিনি।
বার্গাস ইয়োসার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য টাইম অব দ্য হিরো’, ‘আন্ট জুলিয়া অ্যান্ড দ্য স্ক্রিপ্টরাইটার’, ‘দ্য গ্রিন হাউস’, ‘ডেথ ইন দ্য আন্দিজ’, ‘দ্য ওয়ার অব দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘দ্য ফিস্ট অব দ্য গোট’। প্রায় ৩০টি ভাষায় তাঁর লেখা অনূদিত হয়েছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।