আড়াই মাসে পর্যটনকেন্দ্রে ২৫ মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গত আড়াই মাসে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডুবে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন, পানিতে ডুবে ১০…
জর্ডানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কারাক প্রদেশের একটি চার্চে শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলাকালে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আল-মুশাইরফেহ এলাকার হামুদ চার্চে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির সরকার হামলাটিকে চরমপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দেশজুড়ে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-মামলাকার প্রকাশ করা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অন্তত তিনজন বন্দুকধারী ফুটপাত থেকে নিরাপত্তা প্রাচীর ও গাছের আড়ালে অবস্থান নিয়ে চার্চ লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। পরে তারা দ্রুত চার্চের প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খালেদ বুর্কান জানান, শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা কয়েক মিনিট ধরে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চার্চের প্রবেশদ্বারের মেঝেতে রক্তের দাগ দেখা গেছে।
হামলার পরপরই কারাক সফর করেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। গুলির মাধ্যমে জর্ডানের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা সফল হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হামলাকারীদের কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারিও দেন বাদশাহ।
জর্ডানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ আল-মাইতাহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিন আল ফারেহ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলার পেছনে চরমপন্থিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এর সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক বা দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠীর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এ হামলা অন্ধ চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী মতাদর্শের ফল। কোনো অবস্থাতেই এসব আদর্শকে সমাজে বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না।
হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ও প্রার্থনালয়ে এ ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজও এ ঘটনাকে বর্বর ও ঘৃণ্য হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জর্ডানের মোট জনসংখ্যার তুলনায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা কম। মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক শান্ত ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে পরিচিত জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে ইসলামপন্থি চরমপন্থিদের হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার দাবি করেছে। তবে হামুদ চার্চে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au