নাইটক্লাবে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ঘিরে আলোচনায় ‘অজি শোর’-এর নতুন পর্ব
ওটিএন বাংলা, বিনোদন ডেস্ক: তৃতীয় মৌসুমের শুরুতেই খোলামেলা দৃশ্য নিয়ে আলোচনায় এসেছে অস্ট্রেলিয়ার রিয়েলিটি শো ‘অজি শোর’। গোল্ড কোস্টের একটি নাইটক্লাবে ধারণ করা সর্বশেষ পর্বে…
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) ভবনে একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০০৭ সালে ভয়াবহ আগুনে প্রাণহানি, ২০১০ সালে গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ড এবং ২০১৪ সালের আজকের এই দিনে (৩১ অক্টোবর) আবারও আগুনে পুড়ে যায় একটি সংবাদপত্রের কার্যালয়।
বারবার আগুন লাগার পরও ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ভবনটি আসলে কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর ভবনটির ১১ তলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়ে আগুন লাগে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে পত্রিকাটির কার্যালয় পুড়ে যায় এবং এনটিভি ও আরটিভির সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ওই সময় ভবনটিতে এনটিভি, আরটিভি, আমার দেশসহ প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল। আগুনের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও একাধিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আগুনের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও ভবন কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তিনবার আগুন, প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে
এর আগে ২০০৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিএসইসি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ঘটনায় তিনজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন বিএসইসির কর্মচারী এবং একজন এনটিভির পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন।
ওই অগ্নিকাণ্ডে এনটিভি, আরটিভিসহ অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব এবং আনসার সদস্যরা অংশ নেন। উদ্ধারকাজে প্রথমবারের মতো বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়।
২০১০ সালের ২০ জুলাই ভবনের নিচতলার গ্যারেজে একটি জেনারেটরের তারে আগুন লাগে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই ভবনের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনটি ঘটনায় আগুনের সূত্রপাতের স্থান ও পরিস্থিতি আলাদা হলেও ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি
২০১৪ সালের অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মদ খান ভবনটিকে অনিরাপদ বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সিঁড়িতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখা ছিল। এতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপরে উঠতে সমস্যা হয়। এত বড় ভবনে জরুরি বহির্গমন সিঁড়িও পর্যাপ্ত ছিল না।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ভবনের ভেতরে কাগজ ও আইপিএস থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল। ছুটির দিন হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, বিএসইসি ভবন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন সচিব মাসুদ আহমেদ দাবি করেন, ২০০৭ সালের অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্যের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের এই দাবির পার্থক্য প্রশ্ন তৈরি করে।
তদন্ত ও জবাবদিহি কোথায়
২০১৪ সালের আগুনের পর ফায়ার সার্ভিস ও বিএসইসি কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী তখন জানান, ২০০৭ সালের অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন তাঁরা পাননি।
বারবার অগ্নিকাণ্ডের পরও ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ এবং ভবনের ভেতরে মালামাল রাখার ব্যবস্থার নিয়মিত মূল্যায়ন কতটা হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে এক ভবনে বহু প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থাকায় নিরাপত্তার ঘাটতি বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au