ওটিএন বাংলা রিপোর্ট:
খুলনায় খুন, ছিনতাই, অপহরণ ও মাদক কারবারের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, বিপুলসংখ্যক মামলা ও গ্রেপ্তারের পরও থামছে না অপরাধ। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মহানগর ও জেলায় ৭১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধের ভয়ে সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা মহানগর এলাকায় গত ১০ মাসে অপরাধের ঘটনায় এক হাজার ২৮০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই হাজার ১৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে।
অন্যদিকে, খুলনা জেলা পুলিশের আওতাধীন নয়টি উপজেলায় গত সাত মাসে ৭৬৬টি অপরাধের মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এক হাজার ২৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রামীণ কোন্দল, জমি নিয়ে বিরোধ ও মাদক চোরাচালান এসব অপরাধের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১০ মাসে ৭১ হত্যাকাণ্ড
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় ৭১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কেএমপি এলাকায় ৩৫টি এবং জেলা পুলিশের অধীনে ৩৫টি হত্যা মামলা হয়েছে। তবে দুই এলাকার মামলার যোগফল ৭০ হওয়ায় বাকি একটি ঘটনার তথ্য স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
মহানগরে গত সেপ্টেম্বর মাসে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শেষ তিন মাসে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। পুলিশ বলছে, এসব ঘটনার মধ্যে ২৯টির কারণ উদঘাটন করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মাদক কারবারিদের বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনা ঘটছে বলে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অপরাধীরা মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার
গত ১০ মাসে খুলনা মহানগরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫১২টি মামলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে গত সাত মাসে হয়েছে ৩৫১টি মামলা। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে বিরোধও সহিংসতার কারণ হয়ে উঠছে বলে পুলিশের দাবি।
এ সময়ে মহানগরীতে ৫০টি অস্ত্র, ২৩৩ রাউন্ড গুলি ও ৮৫টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র আইনে ৫০টি মামলা করে ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলায় সাত মাসে ৩১টি অস্ত্র ও ৭১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিশেষ অভিযানে গত ১০ মাসে খুলনা অঞ্চলে অন্তত ৬০ জন তালিকাভুক্ত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ৩৬ জন এবং জেলায় ২৪ জন। অক্টোবরে নয় দিনের বিশেষ অভিযানে জেলা পুলিশ ২৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানের পরও স্বস্তি নেই
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, ছিনতাই ও মাদকের সহজলভ্যতায় অপরাধ বাড়ছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন,
অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড মাদক কারবারিদের মধ্যে বিরোধের জেরে ঘটছে। অপরাধীরা মোটরসাইকেলে এসে অপরাধ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। মোটরসাইকেল নিবন্ধনের আওতায় আনা গেলে অপরাধের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।
কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন,
যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী শনাক্ত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অচিরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।