মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক স্বত্ব বিক্রিতে রেকর্ড গড়ল শাহরুখের ‘কিং’
বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’ মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন রেকর্ড গড়েছে। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনা স্বত্ব বিক্রি হয়েছে ১৭৫ কোটি রুপিতে, যা ভারতীয়…
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে টুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাঁর বরখাস্তের পর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আর কারা চাকরি হারাতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় শ্যামল কুমার মুখার্জী রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত বছরের ১ জানুয়ারি তাঁকে রাজশাহীতে সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। তিনি ২২ জানুয়ারি সেখানে যোগদান করেন। তবে একই দিন বিকেলে বিধিবহির্ভূতভাবে তিন সপ্তাহের চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রসহ প্রস্থান প্রতিবেদন জমা দেন।
পরবর্তী সময়ে ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি অনুপস্থিত থাকেন। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। পরে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি তাঁর বরখাস্তের বিষয়ে অনুমোদন দেন।
আদেশে বলা হয়েছে, পলায়নের তারিখ হিসেবে বিবেচিত ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি থেকেই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ আদেশ জারির তারিখ থেকে নয়, বরং কর্মস্থল ত্যাগের দিন থেকেই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত কার্যকর ধরা হয়েছে।
শ্যামল কুমার মুখার্জী পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অর্থ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই বছর ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে টানা চতুর্থবারের মতো আইজিপি ব্যাজ পাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়।
এর আগে ২০১৫ সালে নাটোরের পুলিশ সুপার থাকাকালে গুরুদাসপুরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার জন্য প্রথমবার আইজিপি ব্যাজ পান তিনি। পরের দুই বছরও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাজ পেয়েছিলেন। তবে কর্মজীবনের এসব স্বীকৃতি তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে ওঠা বিভাগীয় অভিযোগ ও তদন্তের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেনি।
সম্প্রতি ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদসহ আট পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি হারানোর খবরও সামনে এসেছে। ফলে পুলিশ বাহিনীতে অতীতের দায়িত্ব, পদমর্যাদা কিংবা পুরস্কারের বাইরে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে। শ্যামল কুমার মুখার্জীর পর আর কার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au