ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার অমর দিকনির্দেশনা
মেলবোর্ন ৭ মার্চ: আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি এক অনন্য, অবিস্মরণীয় এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই…
লেখক: শামীম আহমেদ, টরন্টো, অন্টারিও, ২০ জুন, ২০২৫
ইরান-ইসরায়েল নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটা টেলিভিশন চ্যানেল যে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে, সেটা জাতির সাথে প্রতারণার শামিল। বিশেষত তাদের ইউটিউব চ্যানেলগুলোর মিথ্যা সংবাদ মানব ইতিহাসে গণমাধ্যমের মিথ্যাচারের অন্যতম নিদর্শন হয়ে থাকবে।
আমি খোমেনি স্টাইলের ইসলামী শাসনের বিরুদ্ধে; কিন্তু ইসরায়েলের বিপক্ষে পৃথিবীর যে দেশই লড়াই করবে তাদের সাথে, তাদের পক্ষে। তাই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে আমি ইরানের পক্ষে।
কিন্তু যেটা সত্য সেটা বলতে হবে। ইসরায়েল গত ১ সপ্তাহে ইরানকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। ইরানের বেশীরভাগ পারমানবিক পরীক্ষাগারে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের মিসাইলের সংরক্ষণাগার বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে। পারমানবিক বোমা তৈরীর প্রক্রিয়ায় রিএকটর ঠান্ডা রাখার জন্য প্রচুর ঠান্ডা পানি লাগে; এখন সেসব জলাধারে বোমা মারা শুরু করেছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পেছনে ইসরায়েল বহু আগেই তাদের মোসাদের নারী গোয়েন্দাদের লাগিয়ে দিয়ে রেখেছে। সেইসব জেনারেলরা মোসাদের নারী গোয়েন্দাদের কোলে শুয়ে শুয়ে গত এক যুগ ধরে সমস্ত পরিকল্পনা শেয়ার করেছে। এইসব গোয়েন্দারা কেবল জেনারেলই নয়, সকল উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের শরীর ও মন জয় করেছে, তথ্য সংগ্রহ করেছে এমনকি রাজপ্রাসাদেও গেছে।
এখন সময় মতো তারা সমস্ত তথ্য ইসরায়েলকে দিচ্ছে। ইসরায়েল ৫০ তলা ভবনের ঠিক যেই কক্ষে জেনারেলরা ঘুমায় সেই এপার্টমেন্ট উড়িয়ে দিচ্ছে। গত ১ সপ্তাহে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ প্রায় ৫০ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। মোট মানুষ মেরেছে অন্তত ৯০০ জন।
ইরানের আকাশের নিয়ন্ত্রণ এখন ইসরায়েলের হাতে। ইরানের এন্টি-মিসাইল ক্যাপাসিটি অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে মাত্র এই কয়দিনে। এটি মনে রাখা দরকার এই মুহুর্তে ইসরায়েল ৫টি মুসলমান প্রধান দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এর মধ্যে প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, লেবাননের একটা বিরাট অংশ তারা ইতিমধ্যে স্থায়ীভাবে দখল করে নিয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও অংশ দখল করবে। ইরান আর ইয়েমেন তারা দখল করবে না, কিন্তু ধ্বংস করবে।
ইরান থেকে ইসরায়েলে যত মিসাইল ছোঁড়া হচ্ছে, তার অর্ধেক ধ্বংস করে দিচ্ছে জর্ডান – আরেক মুসলমান দেশ। ইরানকে আক্রমণ করার জন্য কাতারে যুক্তরাষ্ট্রর শক্তিশালী আল-উদেইদ এয়ারবেইজ প্রস্তুত। ইরাকের আল-আসাদ এয়ারবেইজ, কুয়েতের সেন্ট্রাল ইউএস কমান্ডও প্রস্তুত যেকোন হামলা চালানোর জন্য। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমান দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টা মিলিটারি বেইজ আছে। ৮টি স্থায়ী মিলিটারি বেইজ আছে বাহরাইন, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এসব জায়গা থেকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র যেকোন দিন গুঁড়িয়ে দেবার সামর্থ্য রাখে।
ইরান, প্যালেস্টাইন, ইয়েমেন, সিরিয়া, লেবাননে হামলা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল একটাও অমুসলিম দেশের সাহায্য নিচ্ছে না। তাদের সমস্ত সাহায্য করছে মধ্যপ্রাচ্যেরই মুসলমান দেশগুলো। যে দেশে গিয়ে আপনি বিপুল টাকা দিয়ে হজ করে আসছেন, আবার বছর বছর ওমরাও করছেন সেই দেশ তাদের পবিত্র ভূমিতে আমেরিকার জন্য সামরিক ঘাঁটি করে দিয়েছে, যাতে তারা অন্যান্য মুসলমান দেশগুলোতে আক্রমণ করতে পারে।
এত কথা বলার মূল কারণ হচ্ছে আপনাদের জানানো যে ইরানকে শেষ করে দিচ্ছে ইসরায়েল। ইরানের যে ২-৪টা মিসাইল ইসরায়েলে আঘাত হানছে তাতে ক্ষতির পরিমাণ বলতে গেলে কিছুই না এবং কিছু জায়গায় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। যেমন গতকাল ইসরায়েলের যে হাসপাতালে ইরান হামলা চালিয়েছে, সেটি ইসরায়েল হতে দিয়েছে; কারণ এখন তারা এটিকে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে। ইসরায়েল বলছে তারা ইরানের কেবল সামরিক গন্তব্যে আঘাত হেনেছে, কিন্তু ইরান আঘাত হানছে তাদের হাসপাতালে।
এই যে পলিটিক্স, স্ট্র্যাটেজি, ডিপ্লোমোসি এগুলো গন্ডমূর্খ মুসলমানদের মাথায় ঢোকে না। বাংলাদেশের সোশাল মিডিয়ায় ক্রমাগত অন্যান্য দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত, আগুন লাগা ভবন ইত্যাদির ভিডিওকে ইসরায়েলের আক্রান্ত হবার ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো ও তাদের ইউটিউব চ্যানেলে ইসরায়েলকে ধ্বংস দেখানো হচ্ছে। এই একই কাজ তারা গত ৩ বছর ধরে প্যালেস্টাইনের পক্ষেও দেখানোর চেষ্টা করেছে, অথচ গাজা মিশে গেছে মাটির সাথে। বাংলাদেশের কিছু সোশাল মিডিয়া রাইটারও সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ক্রমাগত মিথ্যা আশার কথা লিখে যাচ্ছে।
আপনারা যারা বাংলাদেশের মিডিয়ার, ফেইসবুক রাইটারদের এসব মিথ্যাচার, গুজব বিশ্বাস করেন, আপনাদের কি জুলাই সন্ত্রাস ও অগাস্ট ষড়যন্ত্র দেখেও কোন শিক্ষা হয় নাই? কীভাবে মুগ্ধসহ অজস্র নিরীহ ছাত্রকে মেরে জামায়েত ও ডিপস্টেট সেটা পুলিশের উপর চাপিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করল মাত্র ১০ মাসে?
ধর্মের জন্য, রাজনৈতিক দলের জন্য – মানুষ এই পরিমাণ মূর্খ হয়ে যায় কীভাবে? কীভাবে? কীভাবে?
জাগো বাঙালি জাগো। ১৯৭১ এর বাঙালি ২০২৫ এসে এতটা ধর্মান্ধ, নির্বোধ ও মূর্খ হয়ে যাবে – এটা মেনে নেয়া যায় না। চোখ কান খোলো, পড়ালেখা করো। বিশ্বমানের বই পড়ো, আন্তর্জাতিক পশ্চিমা মিডিয়া দেখো। ১০টা বিদেশী নিউজ দেখে সিদ্ধান্ত নাও। বাংলাদেশী, পাকিস্তানী আর ইন্ডিয়ান মিডিয়া দেখা বন্ধ করো।
চোখ খোলো ভাই-বোন।
শামীম আহমেদ
জুন ২০, ২০২৫
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au