চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমান।
মেলবোর্ন, ২৯ জুন—ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে আকাশযুদ্ধের ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইরান।
সামরিক বিষয়াদি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী অনলাইন পোর্টাল ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি বর্তমানে চীনের তৈরি মাল্টিরোল কমব্যাট যুদ্ধবিমান জে-১০সি কেনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।
এই চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত ফাইটার জেটটি ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে ‘রাফায়েল কিলার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
চীনের কিংডাও শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার এসসিও’র শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহের অংশগ্রহণের সময় থেকেই এই সম্ভাবনার গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।
রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটের সদস্যরা- যেমন ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং বেলারুশ—আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে।
ইরান মূলত রাশিয়ার তৈরি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছিল, যেগুলোর মূল অর্ডার ছিল মিশরের। কিন্তু মার্কিন চাপের মুখে কায়রো তা বাতিল করে।
এরপর ইরান এই যুদ্ধবিমানগুলো পেতে চাইলেও রাশিয়ার ডেলিভারি বিলম্বে হতাশ হয়ে বিকল্প খুঁজছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের তীব্র সংঘর্ষের পর নতুন ও কার্যকর যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তা ইরানের সামনে আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমানে ইরানের বিমানবাহিনী এখনো ৫০ বছরের পুরনো এফ-ফোর ফ্যান্টম ও মিগ-২৯ বিমানের ওপর নির্ভর করছে, যা আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইসরায়েল ও সৌদি আরবের আধুনিক বিমানবাহিনীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অক্ষম।
চীনা জে-১০সি এর সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ব্যবহারের রেকর্ড ইরানকে এই বিকল্প বিবেচনায় উৎসাহ দিচ্ছে।
সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তান বিমান বাহিনী জে-১০সি, পিএল-১৫ই দূরপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে তিনটি ভারতীয় রাফালে, একটি সু-৩০এমকেআই, একটি মিগ-২৯ ও একটি মিরেজ-২০০০ গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে।
যদিও এই দাবিগুলো ভারতের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে এক বিবৃতিতে ভারতের সেনাকর্মকর্তারা বলেছে, লড়াইয়ে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা। এ ছাড়া ফরাসি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, দুই দেশের সংঘাতে রাফালে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।
চেংদু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন নির্মিত জে-১০সি প্রথমবার ২০০৬ সালে চীনা বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়। বর্তমানে এ ধরণের প্রায় ২২০টি বিমান চীনের হাতে রয়েছে।
বিমানটির ডব্লিউএস-১০বি ইঞ্জিন, এইএসএ রাডার, ফ্লাই-বাই-ওয়্যার কন্ট্রোল সিস্টেম ও উন্নত অ্যাভিয়োনিক্সের কারণে একে চীনের অন্যতম সেরা যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জে-১০সি কেনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এটি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। এটি দেশটির রুশ প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে চীনা সামরিক শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের সামরিক প্রভাবও বাড়বে।
যদিও ইরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে এর সম্ভাব্য সংযোজন তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলে আগামী দুই দশকের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বের অস্ত্র বাজারও এদিকে নজর রেখে চলেছে—কোন পথে হাঁটে ইরান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।