ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন ও তেল পরিশোধন কারখানাগুলো লক্ষ্য করে রোববার রাতভর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। সোমবার (৩০ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির কিঞ্জহাল ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোনের মাধ্যমে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কী— সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার রাতভর অন্তত ২০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪০টির মতো বিস্ফোরক ড্রোন ইউক্রেনে প্রবেশ করেছে, যেগুলো তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তারা দেয়নি।
পশ্চিম ইউক্রেনের দ্রোহোবিচ শহরের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা স্টেফান কুলিনায়াক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত একটি সামরিক কারখানায় আগুন লেগেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির বিভিন্ন শর্ত, ন্যাটোতে ইউক্রেনের প্রবেশের চেষ্টা এবং ক্রিমিয়া ইস্যুতে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে অভিযান শুরু করেন।
২০২৫ সালে দ্বিতীয় বছরে গড়ানো এই যুদ্ধে রাশিয়া এরই মধ্যে ইউক্রেনের চারটি প্রদেশ— দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়ার দখল নিয়েছে, যা ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক পঞ্চমাংশ।
যুদ্ধ থামাতে একাধিকবার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমঝোতা হয়নি।